গুরুতর অসুস্থ কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তার পছন্দ অনুযায়ী দেশে অথবা বিদেশে চিকিত্সার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের কাছে এই দাবি জানান। এ সময় তার পাশে দলের নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হোসেন টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা চিকিত্সক নেতা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জিহ্বায় আলসার হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ম্যাডামের চার কেজি ওজন কমেছে। তিনি শুকিয়ে গেছেন। এতো শুকিয়েছেন যে, তাকে চেনাই যাচ্ছে না। তিনি খেতে পারছেন না। হুইল চেয়ার ছাড়া তিনি চলতেই পারেন না। তার স্বাস্থ্য নিয়ে তার পরিবার, আমরা, দেশবাসী সবাই চরম উদ্বিগ্ন। তিনি নিজে খেতে পারেন না, তাকে মুখে তুলে খাওয়াতে হয়। তাও সব খাবার তিনি খেতে পারেন না। এ বয়সে তার যা খাওয়া উচিত তা তিনি পান না।
তিনি বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একটি সাজানো বিচারে তাকে সাজা দিয়ে বিগত প্রায় ১৮ মাস ধরে কারাগারে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একের পর এক ৩৭টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সরকার তার জামিনে প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালতে তার মামলার কাগজ পাঠানো হয় না।
ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিত্সার জন্য গঠিত চিকিত্সক বোর্ড তাকে নিয়মিত দেখছেনও না। কোনও সপ্তাহে সর্বোচ্চ একদিন। কোনও সপ্তাহে দুই দিন বা কোনও সপ্তাহে তিন দিন তারা দেখছেন।
এদিকে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তি না দিলে সরকারের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে মাজারে শ্রদ্ধা জানতে যান। গত ১১ জুলাই তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসানুলাহ হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু প্রমুখ।
