ট্রাম্পের নীতির কড়া সমালোচনা, অভিবাসীদের ‘আপনজন’ বললেন কিম কার্দাশিয়ান 

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৪

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে ফের সরব হলেন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী কিম কার্দাশিয়ান। তার ভাষায়, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর কৌশল ‘অমানবিক’। ডেইলি মেইল জানায়, ভেনিসে অনুষ্ঠিত ডিভিএফ অ্যাওয়ার্ডস মঞ্চে পুরস্কার নিতে গিয়ে তিনি এ সমালোচনা করেন।

কারাগার সংস্কারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার পেয়েছেন কার্দাশিয়ান। তবে মঞ্চে ওঠার আগে তিনি স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিকে একহাত নেন। যদিও ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো। ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। এমনফকি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি হোয়াইট হাউসে গিয়ে ফৌজদারি বিচার সংস্কার নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন এবং সে সময় তার সমর্থনও পেয়েছিলেন।

তবে এবারের বক্তব্যে তিনি জানান, সরকারের দাবি থাকলেও বাস্তবে অভিবাসন অভিযান মূলত নিরীহ শ্রমজীবী মানুষের জীবনকেই বিপর্যস্ত করছে। কার্দাশিয়ান বলেন, 'খবরের শিরোনামে বলা হয়—এটা অপরাধীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে যারা আমাদের দেশকে গড়ে তুলেছেন, পরিশ্রমী সেই শ্রমজীবীরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। তারা আমার চেনা মানুষ, আমার বন্ধুদের পরিচিতজন, আমাদের সবার পরিচিত। তারা উন্নয়নের অংশীদার।'

তিনি আরও বলেন, 'সরকারের বক্তব্যে হয়তো শক্তিশালী বার্তা আছে, কিন্তু বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিরীহ, পরিশ্রমী মানুষদের যখন পরিবার থেকে অমানবিকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়, তখন নীরব থাকা যায় না। আমাদের যা সঠিক তা করতে হবে।'

লস অ্যাঞ্জেলেসে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা টেনে কার্দাশিয়ান বলেন, 'আমি দেখেছি, অভিবাসীরা কীভাবে শহরের কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছেন। তারা আমার কাছে প্রতিবেশী, বন্ধু, সহপাঠী, সহকর্মী এবং পরিবার।'

তার ভাষায়, 'আমাদের সম্প্রদায়গুলো অভিবাসীদের অবদানের কারণেই সমৃদ্ধ। কিন্তু ভয় এবং অবিচার যখন মানুষকে স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত করে, তখন আমরা চোখ বন্ধ করে থাকতে পারি না।'

অভিবাসন ইস্যুর পাশাপাশি কিম কার্দাশিয়ান কয়েক বছর ধরে অপরাধ বিচার সংস্কার আন্দোলনেও সক্রিয়। চলতি বছরের মে মাসে তিনি চার বছরের ‘ল অফিস স্টাডি প্রোগ্রাম’ শেষ করেছেন। জুলাইয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার বার পরীক্ষা দিয়েছেন, এখন আছেন ফলাফলের অপেক্ষায়।

এর আগে ২২ বছর বয়সে ‘সামান্য মাদক অপরাধে’ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া র‌্যাপার ক্রিস ইয়াংয়ের মুক্তির দাবিতে তিনি হোয়াইট হাউসে যান। তার প্রচেষ্টাতেই ২০২১ সালে ট্রাম্প ওই তরুণের সাজা কমিয়ে দিয়েছিলেন।

ইত্তেফাক/টিএইচ