রাজধানীর সাত স্থানে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল: গাড়ি এখনো থামছে হাতের ইশারায়

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:০০

রাজধানীতে যানজট নিরসনে কয়েকটি স্থানে ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল। তবে এখনো গাড়ি থামছে হাতের ইশারায়। লাল সিগন্যাল বাতি জ্বলে উঠলেও গাড়ি থামছে না। পুলিশকেই হাত দেখিয়ে গাড়ি থামাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, কিছু এলাকায় ইন্টারভাল বা ব্যবধান ৫ সেকেন্ড সমস্যা না হলেও যেখানে গাড়ি বেশি সেখানে অন্তত ১৫ সেকেন্ড করতে হবে। এ বিষয়ে কাওরান বাজার-সোনারগাঁও মোড়ে দায়িত্বরত পুলিশ ইন্সপেক্টর সবদুল আলী মোল্লা ইত্তেফাককে বলেন, ৬০ মিটারের দূরত্ব ৫ সেকেন্ডে কীভাবে ক্লিয়ার হয়। কোন কোন জায়গায় হতে পারে। কিন্তু বেশির ভাগ মোড়ে মিনিমাম ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড লাগে ক্লিয়ার করতে। সড়কে রিকশা, ঠেলাগাড়ি ভ্যানসহ বিভিন্ন ধীরগতির যানবাহনও আছে। তাই, সময় সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্টদের আমরা বলেছি।

গত শনিবার আব্দুল্লাহপুর থেকে হাইকোর্ট পর্যন্ত সাতটি ইন্টারসেকশনে পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়। ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে লাল-সবুজ-হলুদ বাতির খুঁটি বসানো হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) ও রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন যৌথভাবে এই কাজ করে। সুফল পেলে আরো ১৫টি সিগন্যালে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু হওয়া সাতটি মোড় হলো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামটর, সোনারগাঁও (কাওরান বাজার), ফার্মগেট, বিজয় সরণি, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং জাহাঙ্গীর গেট মোড়।

গতকাল ঘুরে দেখা গেছে, কোনো ইন্টারসেকশনেই স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল মেনে যানবাহন চলছে না। আগের মতোই ট্রাফিক পুলিশ সদস্য হাতের ইশারায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন। অবশ্য মাঝে মাঝে কিছু সময়ের জন্য সিগন্যালের সঙ্গে মিলেও যাচ্ছে। কিছু সিগন্যালে আলো জ্বলছে না। কাওরান বাজার চৌরাস্তায় পুরোটাই হাতের ইশারা দিয়ে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ বক্সে গিয়ে দেখা যায়, বড় মনিটরের মাধ্যমে প্রতিটি সড়কের সিগন্যাল বাতি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এই কয়েক দিনে কেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বা মানুষ সিগন্যাল মানছে কি না, এমন প্রশ্নে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অপারেটর জামিউল আহসান নাহিদ বলেন, এখনো মানুষ অভ্যস্ত হয়নি। একটু সময় লাগবে বিষয়টি বুঝে উঠতে। তবে আগে থেকে অনেকটা উন্নতি হয়েছে। দায়িত্বরত পুলিশ ইন্সপেক্টর সবদুল আলী মোল্লা বলেন, আমরা ভালো রেসপন্স পাচ্ছি মানুষের। আশা করছি কিছু বিষয় সংশোধন করলে এটি ভালো কাজ করবে। আমরা বিষয়টি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি।

কাওরান বাজারে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের আরেক সদস্য জানান, গাড়ির চাপ অনেক বেশি।  পর্যাপ্ত গবেষণা ছাড়াই সিগন্যালের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে চালুর ফলে কিছু ভুলত্রুটি ধরা পড়ছে। এগুলো পর্যালোচনা করে সময় পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।

অন্যদিকে জাহাঙ্গীর গেট পয়েন্টে ট্রাফিক সদস্যরা চেষ্টা করছেন বাতির সংকেত অনুযায়ী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের। তবে স্কুল শুরু ও শেষের সময় এবং অফিস শুরু ও ছুটির পর তারা সেটি কার্যকর রাখতে পারছেন না। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সিগন্যালে দেখা যায়, লাল বাতি জ্বলার সময় গাড়ি থামছে না। আবার সবুজ বাতি জ্বলার সময় যানবাহনগুলো সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সিগন্যালগুলো বসিয়ে ট্রায়াল দেওয়া হচ্ছে। এতে সুবিধা-অসুবিধাগুলো ধরা পড়ছে। ইতিমধ্যে ট্রাফিক পুলিশদের ট্রাফিক সিগন্যালের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন গেলে সিগন্যালের সময়গুলো পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এএম