বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) এবং নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম আইডিয়েশন চ্যালেঞ্জ প্রোগ্রামের সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের একটি হোটেলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের তরুণ নেতৃত্বাধীন পাঁচটি দলের আট মাসব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনের সমাপ্তি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বেসরকারি খাত, একাডেমিয়া এবং উন্নয়ন সংস্থার বিশিষ্ট অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি ব্যবসায়িক ধারণার উপস্থাপন ও মূল্যায়ন, পণ্য ও সেবা প্রদর্শনী, নেটওয়ার্কিং সেশনের মাধ্যমে শেষ হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে চ্যাম্পিয়ন, প্রমিসিং আইডিয়া এবং স্পেশাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়। যেখানে চ্যাম্পিয়ন দল জিতে নিয়েছে ৫ লাখ টাকার অনুদান এবং অন্য দুটি দল পেয়েছে ১ লাখ টাকার অনুদান।
প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম আইডিয়েশন চ্যালেঞ্জ প্রোগ্রামে ১৬৮টি ব্যবসায়িক আইডিয়া আবেদন করে। সেখান থেকে ২৭টি দল অংশ নেয় উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক দুই দিনের বুটক্যাম্পে। পরে নির্বাচিত হয় পাঁচটি দল, যাদের জন্য ইনকিউবেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা, শিল্প খাতের সঙ্গে সংযোগ এবং সক্ষমতা উন্নয়নমূলক কর্মশালার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিওয়াইএলসি এবং নেদারল্যান্ডস কর্তৃক চট্টগ্রামে আয়োজিত এই উদ্যোগ তরুণদের ব্যবসার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার জন্য তরুণদের ব্যবসায়িক উদ্যোগসমূহকে সরকারি, বেসরকারি এবং উন্নয়ন সংস্থাসমূহকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।
বিওয়াইএলসি এর প্রতিষ্ঠাতা ও এক্সিকিউটিভ চেয়ারপার্সন ইজাজ আহমেদ তার বক্তব্যে তরুণ নেতৃত্বাধীন উদ্ভাবনের রূপান্তরমূলক শক্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,‘চট্টগ্রাম আইডিয়েশন চ্যালেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমরা যেসব তরুণ উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করেছি, তারা কেবল ব্যবসা গড়ছে না, তারা গড়ছে একটি সবুজ ও সহনশীল বাংলাদেশের আশার ভিত্তি। তাদের সাহস ও সৃজনশীলতা প্রমাণ করে যে চট্টগ্রাম থেকেও টেকসই ব্যবসায়িক উদ্যোগসমূহকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।’
ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি, টিম স্পান্স তার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবকদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন, যারা আইডিয়াকে প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং একই সঙ্গে পৃথিবীকেও সুরক্ষিত রাখতে সহযোগিতা করবে। এই প্রোগ্রামের মতো উদ্যোগগুলো তরুণদের বৈশ্বিক সুযোগের সঙ্গেও যুক্ত হতে সহায়তা করবে।’

