১৩ বছরেও শেষ হয়নি কেরু চিনিকলের আধুনিকায়ন প্রকল্প

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮:৩১

মাত্র ২ বছরের মেয়াদে অনুমোদিত চুয়াডাঙার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির আধুনিকায়ন প্রকল্প ১৩ বছরেও শেষ করা সম্ভব হয়নি। চলমান প্রকল্পে ইতোমধ্যে ব্যয় দ্বিগুণ ছাড়িয়ে ১০২ কোটি টাকা হলেও এখনও বাকি রয়ে গেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা থেকে সেনাবাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কেরু চিনিকল পরিদর্শনে আসে। টিমটি প্রায় ২ ঘণ্টা সরেজমিনে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে।

‘বিএমআর অব কেরু অ্যান্ড কোং (বিডি) লিমিটেড’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১২ সালের ২০ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদন পায়। ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য ছিল। প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল ৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

কিন্তু সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় একের পর এক মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০২5 সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়, যা গত আগস্টে একনেক সভায় অষ্টমবারের মতো সংশোধন করা হয়। নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। বর্তমানে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। আর্থিক অগ্রগতি ৭৮ দশমিক ৩২ শতাংশ হলেও বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। শুধু একটি ‘ওয়াটার ট্রায়াল রান’ ছাড়া প্রকল্পে চিনি উৎপাদনের কোনো কার্যকর ফলাফল এখনও মেলেনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য মাত্র ১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের স্থবির অগ্রগতি দেখতে রোববার দুপুরে সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল কেরু চিনিকল পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন- মেজর জেনারেল নাহিদ আজগার, ব্রিগেডিয়ার সাজ্জাদ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলামিন হোসেন সহ মোট ২৯ সদস্যের একটি দল।

তারা দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন এবং এরপর বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানান।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসান বলেন, কাজ সম্পন্ন হতে এখনও কিছুটা সময় প্রয়োজন। কাজ শেষ হলে প্রকল্প বুঝে নেওয়া হবে।

প্রকল্প পরিচালক ফিদা হাসান বাদশা বলেন, গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে আসেননি। ফলে চূড়ান্ত ‘প্রোডাকশন ট্রায়াল রান’ সম্ভব হয়নি। এ কারণে আরও সময় চাওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন ও আইএমইডি (বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) তাদের মতামতে বলেছে, প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান। তবে এখন কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এক বছর সময় বাড়ানো যেতে পারে, তবে আর কোনো খরচ বাড়ানো যাবে না।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বিডি) লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৮ সালে। একসময় যার দৈনিক আখ মাড়াই সক্ষমতা ছিল ১ হাজার ১৬ মেট্রিক টন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়। এজন্যই ২০১২ সালে চিনিকল আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ইত্তেফাক/এএইচপি