জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের পাওয়ার কারের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে।
সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোর পৌনে ৪টার দিকে আক্কেলপুর রেলস্টেশনের দক্ষিণে ভদ্রকালী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রেলওয়ে ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পরে লাইনচ্যুত বগি ও পেছনের কয়েকটি বগি ফেলে রেখে মাত্র পাঁচটি বগি নিয়ে ট্রেনটি জয়পুরহাট স্টেশনে পৌঁছায়। সকাল ৮টার দিকে পার্বতীপুর থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
আক্কেলপুর রেলস্টেশন সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীদের ভাষ্য, লাইনচ্যুত পাওয়ার কারটি ইঞ্জিন থেকে মাঝামাঝি স্থানে ছিল। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে হলহলিয়া রেলসেতুর আগে হঠাৎ বগিটি লাইনচ্যুত হয়। এ সময় বগি থেকে ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধ বের হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
যাত্রীরা পাওয়ার কারের দায়িত্বে থাকা স্টাফদের ঘটনাটি জানান। এরপর পৌনে ৪টার দিকে ট্রেনটি লাইনচ্যুত স্থান থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ভদ্রকালী এলাকায় এসে ট্রেনটি থামানো হয়। ঘটনার পর পাঁচটি বগি নিয়ে ট্রেনটি সামনের স্টেশনে চলে যায়। রেলওয়ের স্লিপারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার পর পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নাটোর থেকে কুড়িগ্রামগামী যাত্রী কামরুল হাসান মিঠু বলেন, আমি লাইনচ্যুত বগি থেকে তিনটি বগি পেছনে ছিলাম। তিলকপুর অতিক্রম করার পরই ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধ পাই। পরে ট্রেনটি ভদ্রকালী এলাকায় গিয়ে থামে। তখন দেখি, পাওয়ার কার লাইনচ্যুত।
সান্তাহার জংশনের মাস্টার মোছা. খাদিজা খাতুন বলেন, ঘটনার পর পাঁচটি বগি নিয়ে ট্রেনটি জয়পুরহাট স্টেশনে অবস্থান করছে। সান্তাহার জংশনে সীমান্ত এক্সপ্রেস ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন দাঁড়িয়ে রাখা হয়েছে। খবর দেওয়া হলে উদ্ধারকারী ট্রেন এসে আটকে পড়া বগিগুলো উদ্ধার করে। বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে।

