শেষটাও রাঙিয়ে দিয়ে গেলেন। নতুন বলে ঝড় তুললেন। ঝড় তুললেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের শেষ ডেলিভারিতেও। বলা উচিত, মালিঙ্গা শ্রীলঙ্কার হয়ে বোলিংটা শুরু করার পরই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। শেষ ওয়ানডেতে নয় ওভার চার বল বোলিং করে ৩৮ রান দিয়ে পেয়েছেন তিন উইকেট। লাসিথ মালিঙ্গার বিদায়টা এর চেয়ে ভালোভাবে হওয়ার আর কোনো উপায় ছিল না।
শ্রীলঙ্কাও পেল এক সহজ জয়। ৩১৪ রানের বিপরীতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ইনিংস স্থায়ী হয় মাত্র ৪১ ওভার চার বল। তাতে সফরকারীরা করতে পারে মাত্র ২২৩ রান। শ্রীলঙ্কা জিতে যায় ৯১ রানের বড় ব্যবধানে। জয় দিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ার শেষ করার পর মালিঙ্গা বলেন, ‘আমি মনে করি ওয়ানডে থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য এটাই সঠিক সময়। ১৫ বছর আমি শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলেছি। এবার আমার সময় শেষ। এবার আমাকে যেতে হবে।’ তিনি জানালেন, ক্যারিয়ারে নিজের সেরাটা দেওয়ারই চেষ্টা করেছেন সবসময়। বললেন, ‘আমি পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আশা করি, এখন তরুণ বোলাররা সেটা করবে। তোমাদের সবাইকে একেকজন ম্যাচ উইনার হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। দলে এমন অনেকেই আছে, যাদের প্রতিভা আছে, যোগ্যতা আছে। তাদের দিকে আরো বেশি নজর দিতে হবে।’
যদিও, টি-টোয়েন্টি খেলাটা সহসাই বন্ধ করছেন না এই স্পিডস্টার। জানিয়েছেন, ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা অন্তত খেলতে চান তিনি। ২০০৪ সালে ওয়ানডে অভিষেকের পর থেকে ১৫ বছর মালিঙ্গা লঙ্কান ক্রিকেটকে সেবা দিয়ে গেছেন। সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০১০ সালের আগস্টে। এবার ৫০ ওভারের ক্রিকেট থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
মালিঙ্গা আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা বোলারদের একজন। যদিও, ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে বড়ো একটা সময় ইনজুরি আর ফিটনেসের ইস্যু নিয়েই লড়াই করতে হয়েছে। যদিও এই বয়সে এসেও যে নিজের দিনে মালিঙ্গাই সেরা সেটার প্রমাণ বিশ্বকাপের মঞ্চেই পাওয়া গেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ৪৩ রানে চার উইকেট নিয়ে দলকে জিতিয়েছেন। তবে এর সবকিছুই এখন অতীত।
শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হয়েই ইতি টানলেন মালিঙ্গা। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসেও তার অবস্থান বেশ ভালো। আছেন নবম স্থানে। তিনটি উইকেট পেয়ে শুক্রবার রাতেই তিনি ছাড়িয়ে গেছেন সাবেক ভারতীয় স্পিনার অনিল কুম্বলেকে। মালিঙ্গা পাঁচ উইকেট পেয়েছেন আট বার, চার উইকেট পেয়েছেন ১১ বার।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ৫০টি উইকেট পাওয়ার কীর্তি গড়ার থেকে মাত্র এক উইকেট দূরে দাঁড়িয়েছিলেন। সেটাও হয়ে গেছে। প্রেমাদাসা ৫২ উইকেট নিয়ে শেষ করলেন তিনি। ফলে বলাই যায় ওয়ানডে ক্যারিয়ার নিয়ে তার কোনো অপ্রাপ্তি নেই। মালিঙ্গা কেবল দেশের ক্রিকেটই নয়, দেশের মাটিও ছাড়ছেন। অবসরের পর তিনি পুরো পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে চলে যাবেন অস্ট্রেলিয়ায়। মালিঙ্গা ইতিমধ্যেই স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তিনি কোচিংয়েও নিজেকে জড়াবেন।
