বঙ্গমাতা ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন না হতে পারায় কষ্টে যে মেয়েরা কেঁদেছিলেন সেই লালমনিরহাটের মেয়েরাই এবার বাফুফের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়ে কাঁদলেন। ইউনিসেফ এবং বাফুফের ডেভেলপমেন্ট টুর্নামেন্টে লালমনিরহাট ৪-০ গোলে মাগুরাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আনন্দের কান্নায় আবেগ আপ্লুত হয়েছেন কমলাপুর স্টেডিয়ামের দর্শক। বৃষ্টি ভেজা দিনের শেষ বিকালে একপাশে চ্যাম্পিয়নরা কাঁদলেন আর অন্য পাশে চ্যাম্পিয়ন না হতে পারার বেদনায় কাঁদলেন রানার্সআপ মাগুরার খেলোয়াড়রা।
দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একটা জায়গায় খুব মিল রয়েছে দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা দশ-বারো বছরের ছোটো ছোটো মেয়েরা ফুটবল খেলতে গিয়ে নানাভাবে কটুকথা শুনতে হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকজনের আজেবাজে কথা শুনতে হয়। তারপরও কোনো বাঁধা এ মেয়েদেরকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। কাল বিকালে ফাইনাল খেলা শেষে সংবাদ মাধ্যম যখন চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়দের দিকে এগিয়ে গেল জুঁই, নিশি, রাহিদা, আদুরী, গোলাপী, আরনিয়া, মোহনা, মরিয়ম, মৌসুমী, লিভা, সান্তুনা, আসমাউলরা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করছিলেন। আনুফা বলছিলেন, আমরা ফুটবল খেলতে যাই বলে রাস্তায় লোকজন আমাদেরকে ছেলে নামে ডাকে। ভাইজান নামে ডাকে।’ রূপালী, ফাতেমারা বলেন, ‘আমাদেরকে বলা হয় ফুটবল পা ভেঙে দেবে।’ টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মুনকি বললেন, ‘আমি একবেলা তামাকের কাজ করি। আরেকবেলা ফুটবল খেলি। তারপরও পথে যাওয়া-আসার সময় শুনিয়ে শুনিয়ে নানা কথা বলে।’ প্রাণকৃষ্ণ গ্রামের এ ফুটবলাররা সবাই একসঙ্গে উচ্চস্বরে বললেন আমরা ফুটবল খেলতে চাই। জাতীয় দলের খেলোয়াড় হতে চাই। চ্যাম্পিয়ন দলের গোলকিপার গোলাপী উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন।
লালমনিরহাটের কোচ আলীম আল সাইদ খোকন জানিয়েছেন, এ মেয়েরা অনেকের পায়ে স্যান্ডেলও থাকে না। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা চ্যাম্পিয়ন দলের লিভা আক্তার। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী কাল ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছেন। অন্য গোলটি সান্তুনা খাতুনের। চূড়ান্ত পর্বে ১৫ গোল করে লিভা সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও আঞ্চলিক পর্ব মিলিয়ে তার গোল ২৯টি। হ্যাটট্রিক আছে ৩টি।
রানার্সআপ মাগুরার খেলোয়াড়রাও সব হতদরিদ্র ঘরের সন্তান। কোচ সহিদুল ইসলাম জানালেন, এদের পরিবার লেখাপড়া করাতে চায় না। ধরে এনে স্কুলে নিতে হয়। খেলার মাঠও নেই। বাজারের পাশে যারা ঘরবাড়ি তোলেনি সেখানে খেলে ঢাকায় এসেছে।
