ভাইয়ের খোঁজে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চান্দিনার নবাবপুর বাজারে এসেছিলেন চার নারী। ভাইকে না পেয়ে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নবাবপুর বাজার থেকে চান্দিনায় আসার জন্য সিএনজি অটোরিকশায় উঠেন তারা।
অটোরিকশায় উঠার পর চালক তাদের কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে করে তাদের মাধাইয়া-নবাবপুর সড়কে না নিয়ে নবাবপুর থেকে গল্লাই কালিয়াচর বাজারে নিয়ে যায়। বাজারে পৌঁছে ঐ সিএনজি অটোরিকশা চালক তাদেরকে ছেলেধরা বলে গুজব ছড়িয়ে দিতেই এলাকার লোকজন তাদেরকে ঘিরে ফেলে। ঐ ৪ নারী তাদের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলার কারণে সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দিতে উদ্যত হয়। স্থানীয় কয়েকজন তাদের একটি দোকান ঘরে ঢুকিয়ে দোকান ঘর তালাবদ্ধ করে তাদের রক্ষা করে। এরই মধ্যে চান্দিনা থানা পুলিশ খবর পেয়ে শুক্রবার বিকালে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। রাতে যাচাই বাছাইয়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় ।
ঐ চার নারী হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গুনিপুর গ্রামের মৃত আলী আকবরের স্ত্রী মাজেদা খাতুন (৪৫), একই উপজেলার ডরমন্ডল গ্রামের মানিক মিয়ার স্ত্রী সুবেরা (৪৭), একই গ্রামের বশির মিয়ার স্ত্রী সাথী আক্তার (২০) ও সুজন মিয়ার স্ত্রী শিউলী আক্তার (২৫)।
চান্দিনা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক জাহিদ জানান, ঐ দোকান থেকে তাদের উদ্ধার করে আনার সময় অনেকে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় আনি। এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার ওসি মো. আবুল ফয়সল জানান, মূলত ঐ সিএনজি চালক গুজব রটিয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। যথাসময়ে পুলিশ না গেলে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। ঐ চার নারীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর জানতে পারি, আলী আমজাদ নামে তাদের এক ভাই নবাবপুর বাজার এলাকার কোনো এক জায়গায় থেকে ফেরি করে মালামাল বিক্রি করে। ঐ ভাইয়ের খোঁজেই তারা এসেছিল।
