আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে!

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৯, ২১:৪৩

গণপিটুনিতে ডাকাত নিহত হবার ঘটনা আমরা কে শুনিনি! কিন্তু প্রতিবাদ করেছি কি কখনো? ভেবেছি কি, ডাকাতেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিচার পাওয়ার অধিকার আছে! প্রতিবাদ করেছি কি? সভ্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব বিচার ব্যবস্থায় সকল নাগরিককে সমান সুযোগ প্রদান করা। আমাদের সংবিধানেই তো বলা আছে, সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, সুবিচার, মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত হবে।

গণপিটুনির অপসংস্কৃতি এ দেশে নতুন কিছু নয়। রাস্তায় পকেটমার ধরা পড়েছে শুনে আমাদের অনেকেই অতি উত্সাহী হয়ে সন্দেহভাজনকে মারতে শুরু করে। ঘটনা কি সেটা জানারও চেষ্টা করে না। এভাবে শুধু যে চোর, ডাকাত, পকেটমাররাই মার খায় তা কিন্তু নয়। পূর্বশত্রুতার জের ধরে কাউকে ব্লেম করে গণপিটুনি দেওয়ার নজিরও আছে। সম্প্রতি পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগার গুজবের ফলে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে মারা যাচ্ছে নিরীহ-নিরপরাধ লোক। বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তির ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়ে মারা পড়েছেন একজন মা। স্ত্রী অন্যের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ায় সন্তানকে লুকিয়ে দেখতে গিয়ে মারা পড়েছেন প্রতিবন্ধী বাবা। কি নির্মম! কি অমানবিক!

কিন্তু কেন এই পাশবিকতা? কেন গণপিটুনির মতো ফৌজদারী অপরাধ করছে সাধারণ জনগণ? পুলিশ, প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থার সবই আছে জেনেও তারা হুজুগে মেতে উঠছে। এই হুজুগে নিরপরাধ ব্যক্তিও মার খাওয়ার শিকার। তাই সমাজে এসব অরাজকতা চলতে পারে না। এর জন্য আইন আছে, বিচার আছে। জনগণ কেন এভাবে মানুষ মারবে? তবে সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় জনগণের সহনশীলতার বাঁধ ভেঙে বদলে যায় প্রতিহিংসা। এখন তো আর সে রকম পরিস্থিতি নেই। এখন যা হচ্ছে তা হলো হুজুগে মেতে উঠে একজন আর একজনকে ছেলে ধরা বলে আক্রমণ করা। এই সব সাইকোলজির কারণে তারা গণপিটুনিতে অংশ নেয়।

কিন্তু গণপিটুনি তো কোনো সমাধান নয়। এর ফলে অপরাধী বিচারের আওতায় আসে না। অন্য দিকে সন্দেহের বসে মারা পড়ে নিরপরাধ লোক। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আমাদের পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে।

গণপিটুনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্তরায়, সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। এর থেকে বের হতেই হবে। জনগণকে হতে হবে আরো সচেতন এবং রাষ্ট্রীয় বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের সম্মিলিত চেষ্টাই পারে গণপিটুনি বন্ধ করতে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়