বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বকে চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোডে যুক্ত হতে হবে

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৯, ২১:৪৯

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোডের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে একটি ন্যায়ানুগ নয়াবিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহকে এর সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। এটা তাদের এবং এশিয়ার স্বার্থেই করতে হবে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দ্যা বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ এন্ড দ্যা নিউ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনোমিক ওয়ার্ডার’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে রেহমান সোবহান বলেন, পৃথিবীর অর্থনৈতিক ভরকেন্দ্র এখন এশিয়াতে এবং চীন সেটির নেতৃত্ব দিচ্ছে। চীন তার উবৃত্ত অর্থ তৃতীয় বিশ্বের অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। যারা একথা বলেন যে, চীনের এ বিনিয়োগ ঋণের ফাঁদ তৈরি করছে এবং সেখানে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার উদাহরণ দেয়—তাদেরকে বলা প্রয়োজন, চীনের বিনিয়োগের বহু পূর্বেই পাকিস্তান তাদের সাত লাখ সৈন্য পালতেই এ ঋণের ফাঁদে পড়েছিল।

সভাপতির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলো বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে যেভাবে সাজিয়েছিল তাতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো এক চূড়ান্ত অসম পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব কখনোই এটা মেনে নিতে পারেনি। বরং বিশ্বায়নের নামে পশ্চিমাদের আরোপিত নয়া উদারনীতিতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মানুষের জীবনমান আরো নেমে যায়। সৃষ্টি হয় বিপুল পরিমাণ ধনবৈষম্য। সেমিনারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর মইনুল ইসলাম বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতির আফিমে ডুবে আছে বর্তমান সরকার। এর ফলে ধনীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গরিব আরো গরিব হচ্ছে। এখান থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে আয় বৈষম্য আরো বাড়বে।