বাগমারায় তলিয়ে গেছে দুই হাজার বিঘা জমির ফসল

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৯, ২২:২০

রাজশাহীর বাগমারায় বন্যা ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে প্রায় ২ হাজার বিঘা জমির ফসল তলিয়ে গেছে। জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এখানে পানিতে ডুবে গতকাল এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে গাইবান্ধায় পানি কমলেও এখনো বিপত্সীমার ওপরে রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।

বাগমারা (রাজশাহী) :এক সপ্তাহ ধরে কয়েক দফা ভারী বর্ষণ, বন্যার পানি বৃদ্ধি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে বাগমারার নরদাশ ইউনিয়নের মরাবিল ও যশোবিলের প্রায় ২ হাজার বিঘা জমির রোপা, আমন, আউশ ধানসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ওই দুটি বিলসহ কয়েকটি পুকুরের চাষকৃত মাছও ভেসে গেছে বন্যার পানিতে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের অবিরাম বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে ভরে যায় উপজেলার সব নদী-নালা ও খালবিল। সেইসঙ্গে কয়েক দিন আগে মান্দায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বাগমারার বারানই ও ফকিন্নী নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় গত সোমবার নরদাশ ইউনিয়নের জয়পুরের ব্রিজের মুখ খুলে দেওয়া হয়। এতে ঐ ব্রিজের মুখ দিয়ে প্রবলবেগে বন্যার পানি প্রবেশ করায় মরাবিল ও যশোবিলের প্রায় ২ হাজার বিঘা জমির রোপা, আমন ও আউশ ধান, পাট, পটোল, করলা, বেগুনসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যায়। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মরাবিল, যশোবিলসহ কয়েকটি পুকুরের চাষকৃত মাছও ভেসে গেছে। এতে মত্স্য চাষিদেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম বলেন, স্থানীয় কিছু লোক মাছ চাষের উদ্দেশ্যে ঐ ব্রিজের মুখে মাটি ফেলে কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্রিজের মুখে কেউ কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচল বন্ধ করতে পারে না। তাই ঐ ব্রিজের মুখের কৃত্রিম বাঁধ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

জামালপুর :জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। শনিবার বেলা ৩টা নাগাদ যমুনার বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপত্সীমার ৫১ সেন্টিমিটার থেকে কমে ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন (পাউবোর) পানি মাপক গেজপাঠক  আব্দুল মান্নান ও নির্বাহী প্রকৌশলী নবকুমার চৌধুরী। গতকাল দুপুরে পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে কাওসার (১৮) নামের এক অটোরিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত চালক জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া বকুলতালা এলাকার বাসিন্দা রমজান আলীর ছেলে। সারা জেলায় বন্যার পানিতে পড়ে এ পর্যন্ত মোট ২৩ জন মারা গেছে।

গাইবান্ধা :গাইবান্ধায় গতকাল নদ-নদীর পানি কমা অব্যাহত ছিল। তবে ধীরগতিতে। ফলে এখনো বিপত্সীমার ওপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র, সড়ক, বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া বানভাসিদের বাড়ি ফেরা শুরু হলেও সংখ্যায় তা নগণ্য। বেশির ভাগ বানভাসি মানুষ এখনো নানা দুর্ভোগ নিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে সড়ক, উঁচু স্থান, বাঁধসহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এসব মানুষকে সহায়তার জন্য সরকার ছাড়াও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু পরিকল্পনার অভাবে অনেক এলাকাতেই এই সহায়তার সুফল আসছে না। কিছু কিছু দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। আবার অনেক এলাকায় কোনো ত্রাণই পৌঁছাচ্ছে না। ফুলছড়ির ভাষারচরের বাঁধে আশ্রয় নেওয়া ছকু মিয়া জানান, ‘বাড়িঘর ছেড়ে পরিবার নিয়ে দুই সপ্তাহ হয় এই বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ পাইনি।’ সাঘাটা উপজেলার মথরপাড়া বানভাসিদেরও একই অভিযোগ। তারাও এখন পর্যন্ত ত্রাণ পায়নি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় জানান, রেললাইন তো বাদিয়াখালী ইউনিয়নের পাশেই। দুই দিন আগেই ঐ ইউনিয়ন পরিষদে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। সেখানকার বাসিন্দারা ত্রাণ পায়নি, এ বিষয়টি কেউ জানায়নি। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি হিসাবেই জেলার দুটি পৌরসভা ও ৫১টি ইউনিয়নের ৪২৪টি গ্রামের ৬ লক্ষাধিক লোক বন্যাকবলিত। এ পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ২৪৫ টন চাল, ২১ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।