এস কে সিনহার আবেদনের শুনানি আগামী মাসে

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৯, ২২:২৬

সাবেক বিচারপতি এস কে সিনহা গত ৪ জুলাই সড়কপথে আমেরিকা থেকে কানাডায় ঢোকার পথে নায়াগ্রা বর্ডারে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে তিনি কানাডায় পাড়ি জমালেন। বর্তমানে তিনি টরোন্টোর স্কারবোরোতে ফ্ল্যাট ভাড়া করে স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে অবস্থান করছেন।

এদিকে গতকাল শুক্রবার কানাডার জাতীয় দৈনিক ‘টরোন্টো স্টার’ দ্বিতীয় শীর্ষ সংবাদ হিসেবে সিনহার দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার ইতিবৃত্ত তুলে ধরেছে। এতে তার আত্মপক্ষ সমর্থন করা বক্তব্য পরিবেশিত হয়। তা নিয়ে সব মহলে আলোচনার ঝড় ওঠে।

কানাডায় তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের খবরটি প্রথম জানায় টরোন্টো থেকে ইতালিয়ান ভাষায় প্রকাশিত ‘কোরিয়েরে কানাডিজ’। প্রতিবেদনটি তৈরি করেন পত্রিকার সম্পাদক এবং কানাডার সাবেক ইমিগ্রেশন ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী জোসেফ ভলপে। তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা।

একদিকে ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার নালিশ, অপর দিকে এস কে সিনহার রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা এখন বিদেশে তুমুল ঝড় তুলেছে। কারণ দুটি বিষয়ই বাংলাদেশের  জন্য বিব্রতকর, ভাবমূর্তির বিষয়টি জড়িত।

ইতিপূর্বে জনাব সিনহা ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম :রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ বইটি প্রকাশ করেও দেশকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। তার পরেও বইটি আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে সহায়ক হয়নি।

‘কোরিয়েরে কানাডিজ’ পত্রিকার সম্পাদক জোসেফ ভলপে একতরফাভাবে বাংলাদেশকে দোষারোপ করেন এবং সিনহার দেশত্যাগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এখনো অতটা পরিপক্ব নয়। ফলে সরকারের বিভিন্ন শাখা, অর্থাত্ আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ এখনো সম্পূর্ণ পৃথক হতে পারেনি। আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগ নির্বাচনের ভিত্তিতে ঠিক হয়। এমন এক পরিস্থিতিতে ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি এস কে সিনহা প্রথম হিন্দু হিসেবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের সাংবিধানিক বিচারালয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এস কে সিনহার  গ্রামের বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তিনি আরো লিখেছেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ভারতীয় উপমহাদেশের এক উত্তাল সময়ের মধ্যে বড়ো হয়েছেন। সেখানে বিদেশি দখলদারিত্ব তিনি যেমন দেখেছেন, তেমনি দেখেছেন স্থানীয়, জাতিগত বিভেদ। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি দখলদারিত্ব শেষ হলেও বাংলাদেশে এখনো এমন পরিস্থিতি আছে।’

কিন্তু জনাব ভলপে কোথাও উল্লেখ করেননি যে সিহনার বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগে মামলা রয়েছে। ফলে এই প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিজ্ঞ মহলের প্রশ্ন রয়েছে।

এ ব্যাপারে ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে ওটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন অথবা টরোন্টোর কন্স্যুলার অফিস থেকে কোনো পদক্ষেপ বা প্রতিবাদ করা হয়েছে কি না, জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও তারা গত দুই দিনে এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি।  বিস্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই সিনহা প্রেস কনফারেন্স করবেন। অন্য একটি অনলাইন পত্রিকা থেকে আরো জানা গেছে, তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের শুনানি শুরু হবে আগামী মাসে।