ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ

‘আমরা কাউকে শিবির, মুসলিম-হিন্দু বা অন্য কোনো পরিচয়ে ভাগ করতে চাই না’

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৯:১২

আমরা কাউকে শিবির, মুসলিম, হিন্দু বা অন্য কোনো পরিচয়ে ভাগ করতে চাই না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাথে নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডাকসু নির্বাচনে আপনারা জগন্নাথ হল থেকে ভোট পাননি বললেই চলে, সেক্ষেত্রে কাজের সময় কোনো বৈষম্য হবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আমরা কাউকে শিবির, মুসলিম, হিন্দু বা অন্য কোনো পরিচয়ে ভাগ করতে চাই না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। কে আমাদের বিপক্ষে ছিল তা আমরা ভুলে গিয়েছি। কে আমাদের পক্ষে বা বিপক্ষে ছিল তা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই হবে ডাকসুর লক্ষ্য।’ 

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ধরেন রিডিংরুম কেন্দ্রিক একটা প্ল্যান আছে, একটা প্ল্যান আছে মসজিদ কেন্দ্রিক। এক্ষেত্রে মসজিদ কেন্দ্রিক যে প্ল্যানটা সেটা জগন্নাথ হলের উপাসনালয়ে প্রযোজ্য হবে, রিডিংরুম কেন্দ্রিক যে প্ল্যান সেটা জগন্নাথ হলের রিডিংরুমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। প্রত্যেকটা জিনিস এভাবে হবে। আমার গতকাল সবগুলো হলের ভিপি, জিএস, এজিএসদের নিয়ে বসেছি। সখোনে জগন্নাথ হলের সমস্যাগুলো আমরা আলাদা করে দেখার চেষ্টা করেছি। কিভাবে সবার আগে প্রায়োরিটি দেওয়া যায়। এখানে জয়ী হওয়ার পরে কে ভোট দিয়েছে কে দেয়নি এই হিসেবে না, বরং প্রত্যেকটা মানুষের প্রতিনিধি আমরা। 

শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে ‘ডিজিটাল কমপ্লেইন বক্স’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেন ডাকসুর জিএস। ফরহাদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যে কোনো ধরনের অভিযোগ জানানোর জন্য ডিজিটাল কমপ্লেইন বক্স বসাবো। একজন অফিসার থাকবে যে অভিযোগ গুলো প্রিন্ট করে আমাদের জানাবে। আমরা প্রত্যেকটা সমস্যা ধরে ধরে তা সমাধানে কাজ করবো।

এছাড়া ক্যান্টিনের খাবারের মানোন্নয়ন এবং স্টাফ ও ম্যানেজারদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ডাকসুর সকল আর্থিক কার্যক্রম অডিটের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও দেন নতুন নেতৃত্ব।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় সাংবাদিক সমিতি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। আমরা চাই প্রতিটি জায়গায় ফেয়ারনেস নিশ্চিত হোক। ক্যাফেটেরিয়া, রেজিস্ট্রার বিল্ডিং, গবেষণা লাইব্রেরি—যেখানেই সিন্ডিকেট আছে, সেখানেই পরিবর্তনের জন্য ডাকসু চাপ সৃষ্টি করবে।’

ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ডাকসু নির্বাচনকে নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে যেমন সেমিস্টারের জন্য সময় বরাদ্দ থাকে, তেমনি ডাকসু নির্বাচনের জন্যও বাধ্যতামূলক সময় নির্ধারণ করব। আমরা চাই প্রতিবছর নির্বাচনের আয়োজন হোক এবং শিক্ষার্থীদের মতামত ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডাকসু সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক।’

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সাংবাদিক সমিতি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। হাসিনার আমলে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস না পেলেও ডুজার সদস্যরা তাদের লেখনীর মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন। নির্বাচনকালেও সাংবাদিকরা দিনরাত পরিশ্রম করে ভোটারদের আস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষা দিয়েছেন।

মতবিনিময় সভায় ডাকসুর নবনির্বাচিত এজিএস মুহাঃ মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘আমাদের সমালোচনা করবেন এবং আমাদের ভালো কাজগুলো প্রচার করবেন। যারা ডাকসু বন্ধ করতে চায় তাদের অপকর্ম গুলোও বের করে আনবেন।’ 

মতবিনিময়কালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি বলেন, ‘ডাকসুর প্রতিনিধিরা বর্তমানে সিনেটের সদস্য হলেও সিন্ডিকেটের সদস্য নন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেট থেকেই আসে। তাই ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সিন্ডিকেটে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ আরও জোরালোভাবে প্রতিফলিত হবে।’

ইত্তেফাক/এমএস