কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে গত পাঁচ দিনে অন্তত ৬০টি বসতবাড়ি এবং প্রায় ৩০০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি নদী রক্ষা বাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অষ্টমীরচর ইউনিয়নের বড়চর এলাকায় ২০টি, নয়ারহাট ইউনিয়নের উত্তর খাউরিয়া ও পূর্ব খাউরিয়া মিলে ১৮টি, বজরাদিয়ারখাতা এলাকায় ১০টি এবং চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতি ও মনতলা এলাকায় ১২টি বসতবাড়ি ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। এসব এলাকার বাদাম খেতসহ নানা প্রকার ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরেরহাট কালিরকুড়া এলাকায় টি-বাঁধের দক্ষিণ পাশে ভাঙ্গনের তীব্রতায় ডানতীর রক্ষা বাঁধও হুমকির মুখে রয়েছে।
নয়ারহাট ইউনিয়নের স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক লাল মিয়া বলেন, উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে নদীর পানি বেড়ে ভাঙ্গন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ফসলি জমি, বসতঘর, আশ্রয়ণ প্রকল্প, ব্রহ্মপুত্র রক্ষা বাঁধ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্লিনিক, রাস্তা, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থান সবই এখন হুমকির মুখে।
ব্রহ্মপুত্রের ডানতীরের একাধিক স্থানে মাটির সরে যাওয়া ও ভাঙ্গনের দৃশ্য ইতিমধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে গ্রামবাসীর মধ্যে। তাঁরা দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাকও ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদে রক্ষা পরিকল্পনার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
