জাপানের রাজধানী টোকিওতে গতকাল রাতে আবার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি ঝরছিল। কিন্তু জাপান ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের দর্শক তখনো বসে আছেন শেষ হয়ে গেছে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ। টানা ৯ দিনের লড়াই দেখল অ্যাথলেটিকস দুনিয়া। শেষ দিনে জাপান ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে জড়ো হয়েছিল ৫৮ হাজার ৭২৩ দর্শক-যা এ আসরের সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড।
এর আগে সপ্তম দিনে রেকর্ড ছিল ৫৮ হাজার ৬৪৩ জন। সব মিলিয়ে ৯ দিনের প্রতিটি সেশনে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, রেকর্ড ভাঙা পারফরম্যান্স আর মাঠভরা আবেগ মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপে মোট দর্শকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৯ হাজার ২৮৮। পরে সমাপনী অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে খেলোয়াড়, দর্শক, স্বেচ্ছাসেবক ও সব অংশীদারকে, যাদের নিবেদনেই গড়ে উঠেছে এই স্বপ্নের মঞ্চ।
রোববার সমাপনী রাতে অ্যাথলেটিকসের ৪ গুনতিক ৪০০ মিটার রিলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃষ্টির মধ্যে। সোনার পদক জয়ের আনন্দে মেতে উঠল বতসোয়ানার লেসিলরা। দ্বিতীয় হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নোয়াহ লাইলসরাও। লাফিয়ে ট্রাক মাতিয়ে তুললেন। জাপান ছিল অনেক দূরে তারপরও জাপানিজদের মনে মানুষের মধ্যে উৎসাহের যেন শেষ নেই। তারা লাইলসকে দেখালেই আনন্দ পান। লাইলস যেন পুরো স্টেডিয়াম কাঁপিয়ে। দেন। সবাই ছুটে যান অলিম্পিক জয়ীর কাছে।
এবারের আসরে হলিউড মুভি দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই অ্যাথলেট। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নোয়াহ লাইলস এবং ও ২০০ মিটার নারী নড়াইয়ে স্বর্ণপদক জয় করেছেন মেলিসা জেফারসন-উডেন। আয়োজক জাপান স্বর্ণ পায়নি। তাতেও আফসোস নেই। তাদের বলা হচ্ছে আগামীতে পাবেন। তারা যেন এই আসরটি নিজেদের দেশে আয়োজন করতে পেরেই খুশি।
বিশ্বকাপ ফুটবল কিংবা অলিম্পিক গেমসে উদ্বোধনী দিন এবং সমাপনী দিনে অনুষ্ঠান হয়। ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস সে পথে হাঁটে না। ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জমকালো কিছু হয় না। সমাপনী অনুষ্ঠানেও কিছু থাকে না। যারা অন্যান্য ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস কাভার করেছেন সেই সব বিদেশি সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের আনুষ্ঠানিকতা বলতে কিছু থাকে না। তবে এখানে একটা দেশের শিল্প, সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ থাকে।
২০০ দেশের অ্যাথলেট এসেছিলেন। সব অ্যাথলেট অলিম্পিক গেমসে যাওয়ার সুযোগ পান না। তারা অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হন। ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস পুরোপুরি অ্যাথলেটিকসের জন্যই। এখানে কেউ দীর্ঘ বক্তৃতা দিতেও আসেন না। সবকিছুতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ থাকে।
জাপানের আয়োজন সুন্দর ছিল। তারা গুছিয়ে আয়োজন করেছে। তবে জাপান যেসব ইভেন্টে লড়াই করেছে সেই সব ইভেন্টের দিকে টিভি ক্যামেরা বেশি ফোকাস করেছে। দেখা গেছে স্বর্ণ পদক জয় করেছেন একজন, আর সেখানে জাপানি অ্যাথলেট ৮ম হয়েছেন। জাপানি টিভিগুলো তাকে নিয়েই ফোকাস করছে।
একজন জাপানি অ্যাথলেট মাঠে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে তাকে ফোকাস করা হয়েছে। স্টেডিয়াম থেকে দর্শক বেরিয়ে গেছেন। কিন্তু তখনও ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের একাধিক ইডেন্ট চলছিল। বৃষ্টি ভেজা স্পট তোয়ালে দিয়ে মুছে খেলা চালিয়েছেন আয়োজকরা। সব শেষে সমাপনী ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, মিনাসাং আরিগাতো (আন্তরিক ধন্যবাদ। সাইওনারা (গুডবাই)।

