কেরানীগঞ্জে বিলাসবহুল বাড়িতে নকল প্রসাধনীর কারখানায়

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২১:১৪

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি বিলাসবহুল বাড়ির ভেতরে গড়ে তোলা গোপন কারখানায় নকল প্রসাধনী তৈরির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব-১০ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী চালানো অভিযানে তিনটি কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনী ও ওষুধ জব্দ করা হয়। এসময় দুইটি কারখানাকে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা এবং একটি কারখানা সিলগালা করা হয়।

অভিযানের প্রথম ধাপে, কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আটিবাজার এলাকায় অবস্থিত দুটি নকল ওষুধ প্রস্তুতকারী কারখানায় অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে এক কারখানার কর্মকর্তা সানোয়ার রহমানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অপর কারখানায় কাউকে না পাওয়ায় সেটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

পরে দুপুরে আটি পুরাতন ভাড়ালিয়া এলাকায় সাকির হোসেন নামক এক ব্যক্তির বিলাসবহুল বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনী ও প্রসাধনী তৈরির কাঁচামাল উদ্ধার করে র‌্যাব। সাকির হোসেন অনুপস্থিত থাকলেও তার ছেলে সিয়ামকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, যা তিনি তাৎক্ষণিক পরিশোধ করেন।

এছাড়াও একই এলাকার কামরুল মিয়ার বাড়ি থেকে “ফেয়ারলুক”, “মুভ”, “অসুকি”, “মেলাট্রিন”সহ আরও কয়েকটি নামী ব্র্যান্ডের নকল প্রসাধনী উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কয়েক বছর আগেও সাকির হোসেন পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি প্রসাধনী দোকানে কর্মচারী ছিলেন। আর্থিক কষ্টে থাকা অবস্থায় তিনি নিজেই নকল প্রসাধনী তৈরি শুরু করেন। অল্প সময়েই বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়ে যান। এলাকাতেই তিনি একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে গোপনে নকল প্রসাধনী তৈরি করতেন।

তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালেও র‍্যাব এই বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল, কিন্তু সঠিক নজরদারির অভাবে তিনি ফের ব্যবসা শুরু করেন। তার মতে, “সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে, কিছুদিন পর আবারও একই কাজ করবেন।”

র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু হাসান বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ও ওষুধ প্রস্তুতকারী কারখানাগুলোতে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করে তা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “ভোক্তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত চালানো হবে।”

ইত্তেফাক/এএম