গরু-মহিষের শিংয়ে বোতাম

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৯, ১৯:০২

 

গরু-মহিষের শিং প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের বোতাম। যা দেখতে আকর্ষণীয়, বাহারি ডিজাইন ও টেকসই। নীলফামারীর সৈয়দপুরেই এসব বোতাম তৈরি হয়ে চলে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

শহর ও গ্রাম এলাকায় গরু ও মহিষ জবাইয়ের পর শিং ও হাঁড়  সাধারণত ফেলে দেওয়া হয়। সেই শিং ও হাঁড় প্রক্রিয়াজাত করে নীলফামারীর সৈয়দপুরের বাইপাস সড়কের একটি প্রতিষ্ঠান উন্নতমানের রঙিন বোতাম তৈরি করে চলছে। যা শার্ট, কোর্ট, প্যান্ট, সাফারি, স্টাইলিশ পোশাকে ব্যবহারের জন্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে উত্পাদিত এসব বোতামের।

প্রথমে ১৯৮০ সালের দিকে শহরের কুন্দল এলাকায় ছোট্ট পরিসরে গরু ও মহিষের হাঁড় গুঁড়ো করার কাজ শুরু হয়। এসব গুঁড়ো আবাদি জমিতে ব্যবহার করে কৃষকরা অধিক ফলনও পেয়ে থাকেন। ফলে চাহিদা বাড়তে থাকে এসব গুঁড়ো সারের। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি বাইপাস সড়কে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় মেশিন। এরপর শিং ও হাঁড় প্রসেস করে বাহারি ডিজাইনের বোতাম তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটির অফিস খোলা হয় শহরের নতুন বাবুপাড়ায় ও ঢাকার মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার মালেক ম্যানসনে।

এগ্রো রিসোর্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের শিল্প প্রতিষ্ঠানে গরু ও মহিষের শিং দ্বারা প্রস্তুতকৃত বোতাম, হাঁড়ের গুঁড়ো, শিংয়ের গুঁড়োসহ বিবিধ পণ্য উত্পাদন করে আশির দশক থেকে রপ্তানি করে আসছি। কিন্তু গত ৩ বছর যাবত্ ভারত সরকারের গরু ও মহিষ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে এই পশু বাংলাদেশে প্রবেশ প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। ভারতীয় গরু শিং আকার ও কোয়ালিটি ভালো হলেও তা বন্ধ থাকায় পণ্যের মান ও পরিমাণ দুটোই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাছাড়া এক শ্রেণির পর্যটক বাংলাদেশে আসছে এবং উন্নতমানের শিং ও হাঁড় নিয়ে যাচ্ছেন ভারতে। ফলে আমাদের মতো শিল্প প্রতিষ্ঠান দিনদিন বন্ধের উপক্রম হচ্ছে। ’

দেশের তৈরি এই বোতাম অত্যন্ত মানসম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি দেশের বাইরেইও এর বেশ চাহিদা রয়েছে। এই বোতাম তৈরিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও রপ্তানি করা সম্ভব এবং এর গুঁড়ো ফসলের জমিতে ব্যবহার করে কৃষকরাও লাভবান হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।