মরিচা ধরে বদলে যাচ্ছে চাঁদের ভূপৃষ্ঠ, দায়ী পৃথিবী

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬:৪০

পৃথিবীর প্রভাবে মরিচা ধরছে চাঁদের ভূপৃষ্ঠে। ফলে পরিবর্তন হচ্ছে চাঁদের ভূপৃষ্ঠ। সম্প্রতি এমন চমকপ্রদ তথ্যই উঠে এসেছে এক গবেষণায়।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবী থেকে ছুটে যাওয়া অক্সিজেন কণার প্রভাবে চাঁদের খনিজ পদার্থ হেমাটাইটে (haematite) রূপান্তরিত হচ্ছে।

চীনের ম্যাকাও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গ্রহবিজ্ঞানী জিলিয়াং জিন জানান, চাঁদের ভূপৃষ্ঠে যেসব পরিবর্তন হচ্ছে, তার পেছনে পৃথিবীর সরাসরি প্রভাব রয়েছে। তার ভাষায়, ‘এটা প্রমাণ করে, চাঁদ শুধু নিজের নয়, পৃথিবীরও ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস ধরে রাখে।’

গবেষণাপত্রটি চলতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, বেশির ভাগ সময় চাঁদ ও পৃথিবী দুটোই সূর্যের চার্জযুক্ত কণার স্রোতে ডুবে থাকে। তবে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ দিন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে। তখন সূর্যের কণা থেকে আংশিক সুরক্ষা পেলেও চাঁদের গায়ে আঘাত করে পৃথিবী থেকে নির্গত কণাস্রোত—যাকে বলা হয় ‘আর্থ উইন্ড’। এই কণাস্রোতে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেনসহ নানা উপাদানের আয়ন থাকে, যা চাঁদের মাটির সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়।

২০১৯-২০ সালে ভারতের চন্দ্রযান-১ মিশনে প্রথমবার চাঁদের মেরু অঞ্চলে হেমাটাইটের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। হেমাটাইট সাধারণত অক্সিজেন ও পানির উপস্থিতিতে তৈরি হয়। অথচ চাঁদে এমন পরিবেশ নেই। ফলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, ওই অক্সিজেন এসেছে বাইরের উৎস থেকে, সম্ভবত পৃথিবী থেকেই।

এই তত্ত্ব যাচাই করতে জিলিয়াং জিন ও তার দল পরীক্ষাগারে ‘আর্থ উইন্ড’-এর সিমুলেশন তৈরি করেন। তারা অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন আয়নকে চাঁদে পাওয়া লৌহসমৃদ্ধ খনিজ স্ফটিকের ওপর নিক্ষেপ করেন। দেখা যায়, অক্সিজেনের প্রভাবে স্ফটিক হেমাটাইটে রূপান্তরিত হয়, আবার হেমাটাইটে হাইড্রোজেন প্রয়োগ করলে তা আংশিকভাবে ফের লোহায় পরিণত হয়।

জিন বলেন, ‘এর মানে চাঁদে প্রতি মাসে আর্থ উইন্ডের সংস্পর্শে এসে তার ভূত্বকে উল্লেখযোগ্য রাসায়নিক ও খনিজগত পরিবর্তন ঘটে।’

হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহবিজ্ঞানী শুয়াই লি এ গবেষণা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ‘এটি একটি চমৎকার পরীক্ষা। খুব সুচিন্তিত ডিজাইন। এটি হেমাটাইট তৈরির নানা কারণ বিশ্লেষণে সাহায্য করে।’

তথ্যসূত্র: সায়েন্টিফিক আমেরিকান

ইত্তেফাক/এসজেএস/এমএএস