চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ)-এর কোটি কোটি টাকার জমি বেহাত হয়ে আছে। প্রতিদিনই চলছে অবৈধ দখল। গড়ে তোলা হচ্ছে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এক প্রকার ওপেন সিক্রেট।
তবে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এসব গড়ে তোলা হচ্ছে বলে দাবি করা হলেও অভিযোগ রয়েছে সওজ বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যক্তিগত ‘সুবিধা’ নিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে সহযোগিতা দিচ্ছে। ফলে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্নের কারণে ঘটছে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা। বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যাও।
সওজের সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। জাতীয় এ সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০০ (৫০+৫০) বর্গফুট জমি সওজের অধিগ্রহণকৃত। সড়কের দুই পাশে প্রায় জমি রয়েছে ১ হাজার ৮৬৫ একর। অধিগ্রহণকালে এসব জমির মালিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছে। অধিগ্রহণকৃত জায়গায় কোনো ধরনের স্থাপনা তৈরি অবৈধ ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ উঠেছে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানের জমির সঙ্গে লাগোয়া জমির কতিপয় মালিক নিজেদের জোতজমির ‘মাথাখিলা’ দাবি করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তুলেছেন।
একটি সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সারাদেশের মতো কক্সবাজার-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের বিভিন্ন স্থানে যৌথ বাহিনীর সহযোগিতায় সওজ বিভাগ অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয় এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে। সে সময় প্রায় ২০০ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাকা দালান, মার্কেট, কলোনি, বাসাবাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ অন্তত ৫ সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল শেষ হয়ে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা নিলে ২০০৮ সালের শুরুর দিকে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণকাজ শুরু করে দখলদাররা। উচ্ছেদের আওতায় পড়া সড়কগুলোর উভয় পাশে বিভিন্ন স্থানে পুনরায় নির্মাণ করা হয় স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা।
সরেজমিন দেখা যায়, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের টেকনাফ বাস স্টেশন, স্থলবন্দর, হ্নীলা, লেদা, মৌলভীবাজার, নয়াপাড়া, হোয়াক্যং, মিনাবাজার, উখিয়া মধ্যম স্টেশন, থাইংখালী স্টেশন, পালংখালী স্টেশন, কুতুপালং স্টেশন, কোটবাজার, মরিচ্যা লিংক রোড়, বাংলাবাজার, চাকমার কুল, কলঘরবাজার, তেচ্ছিপুল, রামু বাইপাস, জোয়ারিয়ানালা, কালিরছাড়া, ঈদগাঁও বাজার ও বাস স্টেশন, নাপিতখালী বটতল, নতুন অফিস বাজার, খুটাখালী বাজার, ডুলাহাজারা, মালুম ঘাট, চকরিয়া, নলবিলা, হারবাং, বরইতলী, আজিজনগর, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, পটিয়া এলাকাসহ আরো বেশ কয়েকটি স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা। অবৈধ দখলদাররা বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে বছরের পর বছর নিজেরা ভোগদখল এবং ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করছে।
কক্সবাজার সওজ বিভাগ সূত্র জানায়, উপরের নির্দেশে কক্সবাজারে সড়ক বিভাগের অবৈধ দখলে যাওয়া জমিগুলো উদ্ধার করতে প্রথম পর্যায়ে অবৈধ দখলদারদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ তালিকায় প্রায় আড়াইশ জন দখলদার হিসেবে চিহ্নিত হয়। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও অবৈধ দখল উচ্ছেদ আর হয়নি।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা অনৈতিক সুবিধা আদায়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, মহাসড়ক সব জায়গায় ১০০ বর্গফুটের নয়। এটা ক্ষেত্র বিশেষে তারতম্য আছে। সড়কের সব জায়গা আমাদের এখনই প্রয়োজন নেই বলে তদারকিটা কম। আমি নতুন এসেছি, তাই আগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া জনবল সংকটের কারণে সবকিছু চাহিদা মতো করা সম্ভব হয় না। অবৈধ দখলদার তালিকা নিয়ে উচ্ছেদ মামলা হয়ে থাকলে সে ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চালানো হবে। তবে এটি নিশ্চিত করতে তিনি প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
