রংপুর মেডিক্যালে নেই ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত ও পরীক্ষা করার ব্যবস্থা

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৯, ২১:০৩

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ২১ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সাত জন ভর্তি হয়েছেন। তবে এ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত ও পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা।

আক্রান্তদের বেশিরভাগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিং কিংবা চাকরি করতেন। সেখান থেকে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চলে এসে রমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সরেজমিনে রমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের তিনটি ওয়ার্ডে ২১ ডেঙ্গু রোগীকে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে এক নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে চার জন, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ জন এবং বাকিদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

লালমনিরহাটের দহগ্রাম আঙ্গরপোতা এলাকা থেকে রমেকে ভর্তি হয়েছেন সাকিব নামের এক কলেজ ছাত্র। সে জানায়, ঢাকায় হামদর্দ কলেজে লেখাপড়া করে সে। ছয় দিন আগে প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে ঢাকায় ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন। সেখানে রক্ত পরীক্ষা করে দেখা যায় সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। পরে সে বাড়িতে চলে আসে। এখানে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে রমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়।

একই কথা জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিং করতে যাওয়া নগরীর গনেশপুরের স্বাগত, ঠাকুরগাঁয়ের নাইমুল ইসলাম ও মিঠাপুকুরের সালাম। তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নগরীর খটখটিয়া এলাকার প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, তিনি সাত দিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। একটু সুস্থ হয়ে রংপুরে আসার পর ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সৈয়দপুর থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মনোরঞ্জন রায় জানান, তিনি ঢাকায় যাননি। হঠাত্ করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কর্তব্যরত নার্স ওয়ালেদা বেগম জানান, হাসপাতালে মেডিসিন ওয়ার্ডের কোথাও জায়গা নেই বাধ্য হয়ে পেয়িং ওয়ার্ড খালি করে সেখানে ডেঙ্গু রোগীদের রাখা হয়েছে।

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের রক্ত পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করে বলেছেন, রোগীদের বাইরে থেকে রক্ত পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

রমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. সুলতান আহাম্মেদ জানান, গত তিন দিনে ২১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে রংপুর এসেছেন। রোগীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিত্সকের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ডেঙ্গু শনাক্ত ও বিভিন্ন পরীক্ষা রমেক হাসপাতালে করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানিয়েছেন।