ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশ 

হতদরিদ্র সেই ফিরোজার চোখে এবার আনন্দের কান্না

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৩:৩৩

'কেউ আমা‌রে একটা ঘর বানাইয়া দিতো, সারাজীবন নামাজ পড়ে দোয়া করতাম’- একটি ঘরের জন্য এভাবেই আকুতি জানিয়েছিলেন সখীপুরের বিধবা নারী ফি‌রোজা বেগ‌ম (৭৩)। এ নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনে সংবাদ প্রচারের পর তা সখীপুর উপ‌জেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএ‌নও) মো. আবদুল্লাহ আল রনীর নজ‌রে এসেছে।

সর্বশেষ ওই নারীকে ঘর তৈরির টিনসহ নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৯ সে‌প্টেম্বর) বিকেলে ওই বিধবার বা‌ড়ি উপ‌জেলার কচুয়া গ্রা‌মের পূর্পাড়া এলাকায় ঘর তৈ‌রির টিন, বিভিন্ন ধরনের খাদ‌্যসামগ্রী, নগদ অর্থ নি‌য়ে হা‌জির হন (ইউএ‌নও) মো. আবদুল্লাহ আল রনী।

এ সময় উপ‌জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো.ওয়া‌মিম, দৈ‌নিক ইত্তেফা‌কের সখীপুর প্রতি‌নি‌ধি মামুন হায়দার, কা‌লিয়া ইউ‌পি চেয়ারম‌্যান জামাল হো‌সেন,গণমাধ‌্যমকর্মী শরীফুল ইসলাম বাবুল, জা‌হিদ হাসান, ম‌নির হো‌সেন, কা‌লিয়া ইউনিয়ন বিএন‌পির সভাপ‌তি মোতা‌লেব সিকদার, স্থানীয় ইউ‌পি সদস‌্য সাইফুল ইসলাম ও মামুন শিকদারসহ স্থানীয়রা উপস্থিত  ছিলেন। ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পর বৃদ্ধার ঘরে হাজির ইউএনও

কচুয়া গ্রা‌মের পূর্পাড়া এলাকায় একটি জরাজীর্ণ মা‌টির ঘ‌রে বিধবা ফি‌রোজা বেগ‌মের ক‌ষ্টে দিন কাট‌ছিল। টিউবওয়েল-ল্যাট্রিন নেই, বয়স্ক ভাতাও পান না, নেই খাবা‌রের নিশ্চয়তাও। জীব‌নের স‌ঙ্গে লড়াই করা বৃদ্ধা ফি‌রোজা বেগ‌মের বেঁচে থাকাই যে‌ন বোঝা। 

চলা ফেরা করার সামর্থ্য হারানো বৃদ্ধা ফি‌রোজা বেগ‌ম টাঙ্গাই‌লের সখীপু‌র উপ‌জেলার কচুয়া পূর্বপাড়া গ্রা‌মের মৃত আবুতা‌লেব মিয়ার স্ত্রী।

বৃদ্ধা ফিরোজা বেগ‌মের যা‌পিত জীব‌নের স‌চিত্র প্রতি‌বেদন দৈ‌নিক ইত্তেফা‌কের অনলাইনে প্রকা‌শিত হ‌লে ইউএনও মো. আবদুল্লাহ আল রনী স‌রেজ‌মিনে দেখ‌তে দেখতে আসেন। 

ফিরোজা বেগমের ঘরটির নাজুক অবস্থা দে‌খে ঘর, ল‌্যা‌ট্রিন ও টিউবওয়েল স্থাপনের আশ্বাস দেন। আর এসব কা‌জের জন‌্য ওই ওয়া‌র্ডের ইউ‌পি সদস‌্য সাইফুল ইসলাম‌কে সা‌র্বিক দা‌য়িত্ব প্রদান ক‌রেন। এছাড়াও ওই বিধবা‌কে স্থানীয় ইউ‌পি সদস‌্য সাইফুল ইসলাম ও মামুন শিকদার নগদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন।

বা‌ড়ি‌তে ইউএনওসহ সবার উপ‌স্থিতি পে‌য়ে আনন্দাশ্রু ছিল বিধবা ফি‌রোজা বেগমের চোখে।

ফিরোজা বেগম ব‌লেন, স্বামীর রেখে যাওয়া ভাঙা মা‌টির ঘর ছাড়া তার কোনো জমিজমা নেই। অ‌ন্যর টিউবওয়েলে পা‌নি আন‌তে এবং অন্যের ল‌্যা‌ট্রিন ব‌্যবহা‌রে দারুণ গালমন্দ শুন‌তে হয় তা‌কে। তাই তি‌নি নতুন এক‌টি ঘ‌রের আশা ক‌রেছি‌লেন; ওই নতুন ঘ‌রে ল‌্যা‌ট্রিন, একই ঘ‌রে বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ ব‌্যবস্থা থাক‌বে। সেই আশাই পূরণ হ‌তে চ‌লে‌ছে বলে যোগ ক‌রেন তি‌নি।

ইউএনও মো. আবদুল্লাহ আল রনী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদ‌রিদ্র-অসহায় মানু‌ষের খবর দৈ‌নিক ইত্তেফাক প্রকা‌শ ক‌রে‌ছে; তা না হ‌লে আমা‌দের নজ‌রে আস‌তো না। তি‌নি উপ‌স্থিত গণমাধ‌্যমকর্মী‌দের দেশ ও মানু‌ষের কল‌্যা‌ণে আরও বে‌শি কাজ করার আহ্বান জানান। 

ইত্তেফাক/এপি