যুক্তরাজ্যে নতুন প্রধান

ওয়াশিংটন-লন্ডন সম্পর্ক কেমন যাবে

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৯, ২১:৩৪

বরিস জনসন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ২৩ জুলাই। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাদৃশ্যগুলো মিলিয়ে দেখছেন অনেকে। কেবল চুলের স্টাইল নয়, স্বভাব এবং আচরণগত দিক দিয়েও দুই  নেতার মধ্যে বেশ মিল রয়েছে। দুজনই এসেছেন দুটো ধনী পরিবার থেকে। বিশ্বায়ন বিরোধী মনোভাব দুজনই পোষণ করেন প্রবলভাবে। রক্ষণশীলতার পুরনো ধ্যান-ধারণা সরিয়ে দিয়ে দুজনই উসকে দিয়েছেন নব্য জাতীয়তাবাদী ধ্যান-ধারণা।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে জনসন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও লন্ডনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাম্প অবশ্য আগে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি। তবে দুজনই আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা থেকে নিজেদের দেশকে মুক্ত করে আনতে বদ্ধপরিকর। দুজনই চান নিজ নিজ দেশের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনতে। ট্রাম্পের প্রিয় উক্তি- ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়। এক্ষেত্রে জনসনের স্লোগান হলো, ‘টেক ব্যাক কন্ট্রোল’। দুজনই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একসঙ্গে কাজ করবেন। দেখার বিষয়-পশ্চিমা দেশগুলোর তারা কতখানি উত্কণ্ঠা বাড়াতে পারেন। ট্রাম্পের সামনে বড়ো ইস্যু এখন আগামী বছরের নির্বাচন। কিছুদিন পরই যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হবে নির্বাচনী প্রস্তুতি। অন্যদিকে জনসন ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে তা করতে না পারলে রাজনৈতিক সঙ্কটে পড়বে ব্রিটেন। সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে ইইউর সঙ্গে যে বিচ্ছেদ চুক্তি করেছিলেন সেটি জনসন ইতিমধ্যেই বাতিল করে দিয়েছেন। ঐ চুক্তি পার্লামেন্টে পাস করাতে গিয়েই মে একের পর এক বাধার মুখে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। ব্রেক্সিটের বিষয়ে তিনি কতটা সফল হবেন সে জন্য এখন কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে।

ঐতিহাসিকভাবে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদর্শ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ-আমেরিকায় পুনর্গঠনের কাজ চলাকালে দেশ দুটি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সে কাজ তত্ত্বাবধান করে। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও ন্যাটোর মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঐ সময় প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর পঞ্চাশের দশকে গঠিত হয় ইউরোপীয় ইকনোমিক কমিশন বা ইইসি। এটি কালক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রূপ পরিগ্রহ করে। ট্রাম্প আর জনসন এমন এক সময় নিজ নিজ দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন যখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে দেশ দুটি নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা ব্রেক্সিটের জন্য তোড়জোড় এখন ব্রিটেনে। দুই নেতা এখন একটি ক্ষয়িষ্ণু সময়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ট্রাম্প ন্যাটোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন থেকে তার দেশকে বের করে এনেছেন। শুধু তাই নয়, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং ইরানের সঙ্গে  ছয়টি দেশের সম্পাদিত পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে গুটিয়ে নিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত উডি জনসন ২৬ জুলাই বিবিসিকে বলেন, জনসনের সময়ে ব্রিটিশ-মার্কিন সম্পর্কে কিছুটা উত্তেজনা থাকবে। ট্রাম্প ও জনসনের নেতৃত্বের ধরনের মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন জনসন তখন লন্ডনের মেয়র ছিলেন। জনসন ঐ সময় একবার ট্রাম্প ‘চরম অজ্ঞলোক’ অভিহিত করেছিলেন। এছাড়া জনসন এটাও বলেছিলেন যে নো ডিল অর্থাত্ ইইউর সঙ্গে কোনো চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট হলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তিকে প্রভাবিত করবে না। উডি জনসন অবশ্য বরিস জনসনের এসব কথা আমলে নিতে নারাজ। তিনি ট্রাম্প ও জনসনের মধ্যে অমিলের চেয়ে মিলই বেশি দেখছেন। তারা দুজনই ব্রেক্সিট সমর্থক।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে এ বিষয়ে ব্রাসেলসের সঙ্গে যেভাবে আলোচনা করেন তারা উভয়ই এর তীব্র সমালোচনা করেন। সম্প্রতি কিছু ঘটনায় লন্ডন-ওয়াশিংটন সম্পর্কে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। কূটনৈতিক কেবল ফাঁসের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত কিম ডারোচ পদত্যাগ করেছেন। উডি জনসন বলেছেন, ‘যদিও চলার পথ সবসময় মসৃণ হয় না কিন্তু আমরা দুটো মহান দেশ। আমাদের সম্পর্ক সবসময়ই অটুট রয়েছে।’