মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান 'জাজিরা (এম) এসডিএস বিএইচডি'র ২ কোটি ৫ লাখ টাকা ধাপে ধাপে আত্মসাৎ করেছেন ঐ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেলসম্যান ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের কালিন্দি এলাকার মো. সোহাগ (৩০)। শুধু তাই নয়, আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত না দেওয়ার হীন উদ্দেশে উলটো ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আজমসহ তার পরিবারের সদস্যদের আসামি করে কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মিথ্যা অপহরণ মামলা করেছেন সোহাগের মা। এসব অভিযোগ করে আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত পেতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. আজমের ভাতিজা আজিজুল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছেন তিনি এবং মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মো. ফয়সাল হাওলাদার, আব্দুল লতিফ ও জাহাঙ্গীর হোসেন নামে তিন ব্যক্তি।
লিখিত বক্তব্যে মো. আজিজুল ইসলাম জানান, মো. সোহাগ জাজিরা (এম) এসডিএন বিএইচডিতে ১০ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো বাবদ বকেয়া থাকা টাকা বিভিন্ন সময়ে তুলে সর্বমোট ২ কোটি ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন সোহাগ। কোভিডকালীন অফিস বন্ধ থাকায় কোনো হিসেব না দিয়ে মালয়েশিয়া থেকে পালিয়ে যান তিনি। পরে দেখা যায় সোহাগ আত্মসাৎকৃত টাকার মধ্যে ৯৬ লাখ টাকা তার মায়ের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে এবং বাকি টাকা তার বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মালয়েশিয়ায় একটি থানায় সোহাগের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। পরে কেরানীগঞ্জ এলাকায় স্থানীয়দের সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সোহাগের মা জয়নব বেগম বিষয়টি স্বীকার করেন। জয়নব বেগম ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ২২ লাখ টাকা ফেরত দেন এবং নগদ ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন। পরে সোহাগের মা বাকি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাধ্যমে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ও ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সোহাগের মা জয়নব বেগম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি মিথ্যা অপহরণ মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ চান তিনি।
