গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যা

চিনিকলের কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ অভিযুক্ত ৯০

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৯, ২২:১২

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যা মামলার দুই বছর আট মাস পর চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল রবিবার গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের হাকিম পার্থ ভদ্রর আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। তবে সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে এ অভিযোগপত্র প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

পিবিআইর গাইবান্ধা ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনর্চাজ) ও সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল হাই সরকার জানান, চূড়ান্ত অভিযোগপত্রে গোবিন্দগঞ্জের সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহম্মেদ শাকিল, একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শাহ আলম ও আইয়ুব আলী এবং  চিনি কলের (জিএম-অর্থ) নাজমুল হুদাসহ ৯০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।  এ পর্যন্ত এ মামলায় ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া, সাঁওতালদের লুট হওয়া কিছু ঢেউটিন ও মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

বেলা ২টার দিকে গাইবান্ধা পিবিআই কার্যালয়ে এক প্রেসবিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল হাই সরকার এক প্রশ্নের জবাবে জানান, শুধু পিবিআই নয়, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ মামলার জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি করেছেন। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করতে পারেননি। এছাড়া পিবিআই ঘটনা তদন্তে প্রত্যক্ষ সাক্ষী, আহত, জনপ্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও এ ঘটনায় জড়িত কোনো পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করতে পারেনি। এমনকি ভিডিও, পত্রিকার ছবি বিশ্লেষণ করেও এ ঘটনার সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত আছে বলে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে চূড়ান্ত অভিযোগপত্রে কোনো পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়নি। তিনি আরো জানান, একইভাবে ব্যাপক তদন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদেরও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

এদিকে, প্রধান আসামি সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদসহ গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল বেলা ৩টায় গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়কের আমতলী এলাকায় অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে সাঁওতালরা। ফলে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এর আগে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারপুর এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে তিন শতাধিক সাঁওতাল ওই এলাকায় এসে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির এ অবস্থান ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে যোগ দেয়। এ সময় আগামী ৩০ জুলাই সংবাদ সম্মেলন ও ১০ আগস্ট গোবিন্দগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাসেক বলেন, এ চার্জশিটের মাধ্যমে সাঁওতালদের সঙ্গে পরিহাস করা হয়েছে। অবিলম্বে এ মামলার চার্জশিট সংশোধন করে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে যে মামলা করা হয়েছে তার আলোকে পুনরায় চার্জশিট প্রদান করা হোক।

গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে অধিগ্রহণকৃত জমি শর্ত ভেঙে চিনিকল কর্তৃপক্ষ লিজ দিলে সাঁওতাল ও স্থানীয় কিছু বাঙালি তাদের জমি ফেরত পেতে আন্দোলন করে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই কিছু এলাকায় তারা চারটি বসতিও স্থাপন করে। একই বছর ৬ নভেম্বর ওই খামারের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে ৯ জন পুলিশ সদস্য তীরবিদ্ধ ও চারজন সাঁওতাল গুলিবিদ্ধ হন। এর মধ্যে তিনজন সাঁওতাল মারা যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই খামার থেকে সাঁওতালদের বসতি উচ্ছেদ করে। এ ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষে স্বপন মুরমু ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর ৬০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। একই বছর ২৬ নভেম্বর থোমাস হেমরম সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহম্মেদসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে আরেকটি মামলা করেন।