গাইবান্ধায় এবারের বন্যায় সাত উপজেলার ১ লাখ ৮২ হাজার ৫২২ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের ১৪ হাজার ২১ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পরে। তারমধ্যে ৭ হাজার ৫১৯ দশমিক ৯০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। যার মূল্য ৯২ কোটি এক লক্ষ ১৭ হাজার টাকা।
এদিকে জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে বন্যা কবলিত অনেক এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। জেলায় এখন শুধু মাত্র ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ২৬ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রগুলো থেকে গত দুই দিনে ২১ হাজার ৯০৪ জন মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে।
অপরদিকে গাইবান্ধার বিভিন্ন সড়ক, উচুস্থান, বাঁধসহ সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে দীর্ঘদিন থেকে এখনও অবস্থানরত বন্যার্তরা মানববেতর জীবন যাপন করছে। দীর্ঘদিন ধরে জেলার অধিকাংশ এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়ায় এলাকায় কোন কাজ না থাকায় শ্রমজীবী মানুষরা চরম অর্থ সংকটে পড়েছে। এছাড়া বন্যার্ত নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোও ত্রাণের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকা ও আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শিশু ও বৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু কোন মেডিকেল টিমের দেখা মিলছেনা বলে অভিযোগ করছেন বানভাসি মানুষরা।
গাইবান্ধা কৃষি অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ ফেরদৌস জানান, বন্যায় জেলায় নষ্ট হয়ে যাওয়া রোপা আউস ধানের ক্ষেতের পরিমান ৩ হাজার ৬১ হেক্টর, পাট ২ হাজার ৩৮৮ হেক্টর, রোপা আমন বীজতলা ৪২৩ হেক্টর, আগাম রোপা আমন ধান ৩১ হেক্টর, শাকসবজী ১ হাজার ১৩৫ হেক্টর, পানবরজ ৩ হেক্টর ও অন্যান্য ফসল ৪৬ হেক্টর।
জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এবিএম আবু হানিফ জানান, সাত উপজেলার ৫১টি ইউনিয়নের বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য ১০৯টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষনিক কাজ করছে। আক্রান্ত লোকের চেয়ে তাদের লোকসংখ্যা কম হওয়ায় সব এলকায় যাওয় সম্ভব হচ্ছে না।
ইত্তেফাক/আরকেজি
