রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে ৫টি ইউনিয়ন। ঝড়ের কারণে প্রায় ১২ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষেতের ফসলও। এ সময় আহত হয়েছেন ৫ জন।
রোববার (৫ অক্টোবর) সকালে হঠাৎ শুরু হওয়া এই ঘূর্ণিঝড় কিছু সময়ের মধ্যেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হঠাৎ কালো মেঘে অন্ধকার হয়ে যায় আকাশ। কিছুক্ষণের মধ্যে মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে শুরু হয় তীব্র ঘূর্ণিঝড়। অল্প সময়ের এই ঘূর্ণিঝড়ে টিনশেড ও আধা-পাকা ঘরবাড়ি, গাছপালা মুহূর্তেই বিধ্বস্ত হয়।
আলমবিদিতর ইউনিয়নের কুতুব হাজীরহাটের বাসিন্দা নাজমুল আমিন বলেন, হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ে আমার পাকা ঘর ভেঙে গেছে। ঘরের টিন উড়ে গিয়ে দূরে পড়েছে। আমার ছেলে মাফি (তৃতীয় শ্রেণি) আহত হয়ে এখন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি।
নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
আলমবিদিতর ইউনিয়নের প্রশাসক আফতাবুজ্জামান চয়ন বলেন, আমাদের ইউনিয়নে প্রায় ৩০০ ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেককে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম জানান, ঝড়ে উঠতি আমন ধানের ক্ষেত মাটিতে পড়ে গেছে। এতে ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬১.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রংপুরের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা ঝড়ের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েছি। তবে গঙ্গাচড়ার ওই এলাকায় কোনো আবহাওয়া স্টেশন না থাকায় ঘূর্ণিঝড়ের সঠিক গতিবেগ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ঝড়ে কয়েকটি ইউনিয়নে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় এক হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে জেলা প্রশাসনের কাছে চাল, টিন ও নগদ সহায়তার আবেদন জানানো হবে।
