ধামরাইয়ে দেশীয় পদ্ধতিতে হূষ্টপুষ্ট ৩০ হাজার গরু

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৯, ০০:১৫

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু হূষ্টপুষ্টকরণের ধুম পড়েছে ঢাকার ধামরাইয়ে। গরুর যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারী উদ্যোক্তা, গৃহস্থ ও খামারিরা। গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে খড়, তাজা ঘাস, ভুসি, দানাদার খাবার ও প্রচুর পরিমাণে তরল খাদ্য। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করায় ব্যবহূত ক্ষতিকারক স্টেরয়েড পরিহার করে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে এসব গরু লালনপালন করা হচ্ছে। এসব আশা জাগানিয়া তথ্য দিয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাঈদুর রহমান।

শুধু ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় দেড় হাজারের বেশি নারী উদ্যোক্তা এসডিআইয়ের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও ঋণ সহায়তা নিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ গরু দেশীয় পদ্ধতিতে হূষ্টপুষ্ট করছেন বলে জানা যায়। তবে সারা উপজেলায় হূষ্টপুষ্ট গরুর সংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। এসব তথ্যের সূত্র ধরে উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের বহুতকূল গ্রামে গিয়ে জানা যায়, ঐ গ্রামে শিল্পী, ময়না, সেলিনা, নাজমা, আমেনা বেগমসহ ৩০-৩৫ জন নারী উদ্যোক্তা গরু হূষ্টপুষ্ট করছেন। কৃষক পরিবারের গৃহিণী শিল্পী বেগম জানান, এফটিসি থেকে প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা নিয়ে তিনি পাঁচটি গরু হূষ্টপুষ্ট করছেন। ইতিমধ্যে তার একটি গরুর দাম ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা উঠেছে। তার আশা তিনি গরুটি ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। আরেক নারী উদ্যোক্তা ময়না বেগম জানান, নিয়মিত খাবার খাইয়ে, গোসল করিয়ে নিজের সন্তানের মতোই আদরযত্ন করে দেশীয় পদ্ধতিতে তার গরুগুলোকে লালনপালন করছেন।

উদ্যোক্তারা জানান, গরু মোটাতাজা করে বিগত বছরগুলোতে তারা লাভবান হয়েছেন। এবারও তারা লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এসডিআইয়ের সিইও সামছুল হক জানান, শুধু ধামরাই নয়, অন্যান্য উপজেলাতেও তাদের উদ্যোক্তারা দেশীয় পদ্ধতিতে গরু হূষ্টপুষ্ট করছেন।