মানিকগঞ্জের পদ্মা নদী সংলগ্ন একটি খালে সম্প্রতি কুমিরের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সেই খালে প্রতিদিনই একটি কুমিরকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ পরিস্থিতিতে খালটি ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। তাছাড়া মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন জেলেরা।
পদ্মা নদী খালটি সদর উপজেলার চর বংখুরি গ্রাম থেকে শুরু হয়ে হরিরামপুর উপজেলার ধুলশুড়া-বোয়ালী এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় প্রতিদিনই খালের পানিতে কুমিরটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ ভয়ে খালের কাছাকাছি যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এমনকি স্থানীয় জেলেদের অনেকেই কুমিরের আতঙ্কে মাছ শিকার করতে আসছেন না।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিরের ভয়ে জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, খাল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বাড়িগুলোর বাসিন্দারা দীর্ঘকাল ধরে গোসল, কাপড় ধোয়া এবং অন্যান্য গৃহস্থালির কাজের জন্য এই খালের পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কুমির আতঙ্কে অনেকে বাধ্য হয়ে খালে নামা বন্ধ করে দিয়েছেন।
চর বংখুরি গ্রামের বাসিন্দা মাজেদা আক্তার এক ভীতিকর অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, সকালে পানি আনতে গিয়ে একটা কুমির খুব কাছে চলে আসে। আমার দিকে তেড়ে আসতে দেখে আমি দৌঁড়ে দূরে চলে যাই। পরে দেখি কুমিরটা পাশের একটা হাঁসকে ধরে নিয়ে যায়।
রংখুরি গ্রামের নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা শুনেছিলাম খালে মাঝে মধ্যে কুমির দেখা যায়। কিন্তু এ বছর হঠাৎ করে এর আনাগোনা বেড়ে গেছে। এর আগে আমরা কখনও এই খালে কুমির দেখিনি। সম্ভবত খালটি পদ্মা নদীর পাশে হওয়ায় কুমিরটি লোকালয়ে চলে এসেছে।
এই প্রসঙ্গে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মনোয়ার হোসেন মোল্লা জানিয়েছেন, কুমিরের বিষয়টি বন বিভাগকে অবগত করা হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
