মির্জাপুরে ড্রেনেজ সংকটে জলাবদ্ধতা, মানবেতর জীবন পাঁচ শতাধিক পরিবারের

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:১৩

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপাড়া, বণিকপাড়া, সূত্রধরপাড়া, সরিষাদাইর ও ঘোষপাড়ায় জলাবদ্ধতার কারণে পাঁচ শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভা থেকে পরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই এসব এলাকাজুড়ে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকে। পচা পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু, খোচা, পাচরা, চর্মরোগসহ নানা ধরনের রোগবালাই।

সোমবার (৬ অক্টোবর) সরেজমিনে সাহাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়ির উঠান পানিতে তলিয়ে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ওষুধ ব্যবসায়ী সমীর বণিক, উত্তম বণিক, রাজীব বণিক, গৌতম বণিক, গোপাল বণিক, দিলীপ চক্রবর্তী ও জয়দেব বণিকসহ ২০-২৫ জন নারী-পুরুষ অভিযোগ করেন, পৌরসভার আয়কর বাড়লেও নাগরিক সুবিধা বাড়েনি। বহু বছর ধরে এই ওয়ার্ড অবহেলিত। 

সাহাপাড়া, বণিকপাড়া, সরিষাদাইর, সূত্রধরপাড়া ও ঘোষপাড়ায় এখনো পাকা ড্রেনেজ ব্যবস্থা হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। মূল রাস্তায় পাকা ড্রেন থাকলেও তা বাড়িগুলোর তুলনায় অনেক উঁচু, ফলে ড্রেনের ময়লা পানি উল্টো ঘরে ঢুকে পড়ে।

তারা আরও জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য একাধিকবার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মির্জাপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর হোসেন বলেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপাড়া, বণিকপাড়া ও ঘোষপাড়া মূল রাস্তা থেকে নিচু হওয়ায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল, তবে জায়গা না পাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসী জমি দিলে টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত ড্রেন নির্মাণ করা হবে।

পৌরসভার প্রশাসক ও মির্জাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। সমস্যা নিরসনে পৌরসভা থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি