দিঘলিয়ায় যুব সমাবেশে আজিজুল বারী হেলাল

গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার রক্ষায় বিএনপির অঙ্গীকার অটুট

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫২

“যুব সমাজের অঙ্গীকার, ফেরাতে হবে ভোটের অধিকার”— এই শ্লোগানে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দিঘলিয়ায় উপজেলা ভিত্তিক যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকেলে জাতীয়তাবাদী যুবদল দিঘলিয়া উপজেলার আয়োজনে সেনাটি শিব মন্দির মাঠে এ যুব সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজিজুল বারী হেলাল বলছেন,গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারের জন্য বিএনপি আন্দোলন করেছে। গত ১৭ বছর ধরে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার মানুষ যেন নিজের পছন্দের নেতাকে ভোট দিতে পারে এজন্য প্রশাসন,নির্বাচন কমিশন ও জনগণকে একসাথে কাজ করতে হবে।

হেলাল আরও বলেন,আমরা চাই সব রাজনৈতিক দল জামায়াত, নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, কমিউনিস্ট পার্টি সবাই ঐক্যবদ্ধ হোক। ধর্মকে রাজনীতির পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ধর্ম মানুষকে বিভক্ত নয়, ঐক্যবদ্ধ করে এই শিক্ষা আমাদের নিতে হবে।”

তিনি বলেন,দিঘলিয়ায় আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়তে চাই। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান — সবাই মিলে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলব। রাজনীতি হবে সত্য, সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার পথে।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গে হেলাল বলেন,বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ ভঙ্গুর। ব্যাংক লুট, ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারে দেশ বিপর্যস্ত। আগামী সরকারকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন অপরিহার্য।”

তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন,যারা অন্যায় করে, মানুষের জমি দখল করে, চাঁদাবাজি করে—তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন। তারা যে দলেরই হোক না কেন, অন্যায়ের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে আজিজুল বারী হেলাল বলেন,বাংলাদেশের নির্বাচন অত্যাবশ্যক। কেউ কেউ নির্বাচন পেছাতে চায়, যা ফ্যাসিবাদী শক্তির সুরে কথা বলা। বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন চায়, গণতন্ত্র চায়। তাই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন,তারেক রহমানের নেতৃত্বে গৃহীত জুলাই সনদ আমাদের সংগ্রামের ভিত্তি। একটি জাতীয় ঐক্যের সরকারই আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারবে।

শেষে তিনি বলেন,“আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’। সীমান্ত, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে কোনো বিভাজন নয়  ঐক্য, উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনই বিএনপির লক্ষ্য।”

সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন খুলনা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এবাদুল হক রুবায়েত, বিশেষ বক্তা খুলনা জেলা যুবদলের সদস্য সচিব নাদিমুজ্জামান জনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু,সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. মোমরেজুল ইসলাম,যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল,দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. সাইফুর রহমান মিন্টু,সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মল্লিক, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন শরীফ ইকবাল হোসেন, মোল্লা নাজমুল হক, মোল্লা মনিরুজ্জামানসহ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।সভাপতিত্ব করেন দিঘলিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কুদরত-ই-এলাহি স্পিকার এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব খন্দকার ফারুক হোসেন।

ইত্তেফাক/এমএএম