ধান না হওয়ায় চিতলমারীতে খড় সংকট, গরুকে কচুরিপানা খাওয়াচ্ছেন খামারি

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৪৮

চিতলমারীতে  গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। গেল বছর ইরি-বোরো ধানে ফসল ভালো না হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

এতে চলতি মৌসুমে বেড়েছে খড়ের দাম। প্রতি কেজি খড় বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা দরে।

সরোজমিনে ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিতলমারীতে চিংড়ি ও সবজি চাষের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে খামার  ও পরিবার ভিত্তিক গরু পালন করা হয়। গত চৈত্র মাসে  বিলাঞ্চলের বেশিরভাগ জমির  ইরি-বোরো ধান লবণাক্ততার কারণে পচন রোগে নষ্ট হয়েছে। ধান না হওয়ার কারণে এ বছর দেখা দেয় খড় (কুটা) সংকট।  এতে খামারিরা বেশিরভাগ ঘের, খালপাড়, ও বিলের  ঘাস কেটে  পশুদের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।

সম্প্রতি বৃষ্টিপাতের কারণে বিলে ঘাসও পাওয়া যাচ্ছে না। ঘাস না পাওয়ায় বিকল্প খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কচুরিপানা।

শ্রীরামপুরের খামারি নিমাই মন্ডল বলেন, আমার গোয়ালে তিনটি গরু আছে। আমার যে খড় আছে তাতে ১৫ দিনের মত যাবে খেতে পারবে। ঘাসের বিকল্প হিসেবে দুধওয়ালা গাভীকে কচুরিপানা খাওয়াচ্ছি। কচুরিপানা খাওয়ানোর কারণে বেশিরভাগ খামারিদের গরু রুগ্ন হয়ে যাচ্ছে।

একই গ্রামের প্রভাষ বালা বলেন, আমি ১৮টি গরু নিয়ে খামার করেছি। বিলে কোনো ঘাস নেই। কচুরিপানার পুষ্টি  নেই জেনেও গাভীদের কচুরিপানা খাওয়াচ্ছি। খাদ্য সংকটের কারণে দুধ কমে গেছে। অন্য বছর থেকে এ বছর খড়ের দাম বেশি।

ভেন্না বাড়ি গ্রামের খামারি  সমীর হালদার বলেন, খইল, ভুষি, ভুট্টার দাম অনেক বেশি গরু পালতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। গরুর দামও অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম থাকার কারণে গরু বিক্রি করতে পারছি না।

খড় ব্যবসায়ী শহীদ শেখ ও মো. আবু তালেব বলেন, অন্যান্য বছর থেকে এ বছরে খড়ের দাম দ্বিগুণ। ১০ কেজি ওজনের এক কেজি খড় বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা দরে। ওই হিসেবে প্রতি কেজি খড়ের দাম ৩৫ টাকা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আহমেদ ইকবাল বলেন,  চিতলমারীতে ৪০টি গরুর খামার রয়েছে। পরিবার ভিত্তিক গরু পালনের পরিবেশ এখানে ভালো। যার কারণে এখানে লোকজনের গরু পালনের প্রতি আগ্রহ বেশি। এ উপজেলায় মোট গরুর পরিমাণ প্রায় ৭০ হাজারের মতো। গরুর খামার করতে হলে ঘাস লাগানোর জন্য জমি একান্ত দরকার। দানাদার খাবারের থেকে ঘাসে পুষ্টি বেশি। তাই পুষ্টির জন্য ঘাস  দরকার। খামারিদের ঘাস লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

ইত্তেফাক/এপি