বাঁশের খুটিতে ভর করে টিকে আছে সেতু, দুর্ভোগে সাত গ্রামের মানুষ 

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ১৬:০২

সড়ক যেন থেমে গেছে সেতু মুখে। মাঝপথে এসে থেমে যায় অটোরিকশা। কারণ, সেতুর মাঝ অংশ ডেবে গেছে, উপরের অংশে ফাটল, রেলিংয়ের পলেস্তারা খসে পড়ে মরিচাধরা রড বেরিয়ে এসেছে। পিলারগুলো হারিয়েছে ভার বহনের সক্ষমতা। এই পরিস্থিতিতে বাঁশের খুঁটি গেড়ে সেতুটিকে টিকিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয়রা। এমন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই উপজেলার সাত গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে। ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

বলছি দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের গোলাপেরচর গ্রামে গোমতীর শাখা খালের উপর থাকা সেতুর কথা। সদর উত্তর ইউনিয়নের গোমতী নদীর গোলাপেরচরের পাড় থেকে ২ কিলোমিটারের পাকা সড়কটি চেঙ্গাকান্দি উত্তর পাড়ায় গিয়ে শেষ হয়েছে। এই সড়কের মাঝে রয়েছে সেতুটি। প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মান করা হয় এটি। বর্তমানে সেতুটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা। পিলারগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। মাঝ অংশের পিলার ডেবে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। সে জন্যে স্থানীয় বাসিন্দারা শতাধিক বাঁশের খুটি গেড়ে সেতুটি রক্ষার করার চেস্টা করছে। সেই সাথে অটোরিকশা কিংবা ভারী যানবাহন সেতুটির উপর দিয়ে চলাচল বন্ধ রেখেছে। আর এতেই নিয়মিত দুর্ভোগে দুই উপজেলার সাত গ্রামের সাধারণ জনগণ।

প্রতিদিন দাউদকান্দির গোলাপেরচর, চেঙ্গাকান্দি, গঙ্গাপ্রসাদ ও মেঘনা উপজেলার চরকাঠালিয়া, শেখেরগাও, লক্ষীপুর ও সাতঘরিয়াকান্দি গ্রাম থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ এই সড়কে যাতায়াত করে। কিন্তু বেহাল সেতুর কারনে নিত্যপণ্যসহ ভারী মালামাল নিয়ে যাতায়াত করা যায় না। সেতুটির এক মাথায় নেমে অন্য মাথায় গিয়ে আবার অটো পরিবর্তন করতে হয়। এতে তাদের দুর্ভোগের পাশাপাশি বাড়তি খরর্চ ও সময় অপচয় হয়। আর এটি নিত্যদিনের চিত্র। তাই, স্থানীয়রা শীঘ্রই নতুন সেতু নির্মানের অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহলের নিকট। 

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এলজিআরডি অধিদপ্তর থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে এই সেতুটি নির্মান করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ মিটার ও প্রস্থ ৩ মিটার। এই সেতুটিকে অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। 

গোলাপেরচর গ্রামের মোবারক হোসেন বলেন, আমরা সেতুটি রক্ষায় বাঁশের খুটি লাগিয়েছি। এই সেতুটি ভেঙ্গে পড়লে যাতায়াতে আমাদের অনেক ক্ষতি হবে। কখন জানি ভেঙ্গে পড়ে। সেই ভয়ে আমরা এটার উপর দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে যাই না। সরকারের নিকট নতুন ব্রিজ নির্মানের অনুরোধ করছি।

অটোরিকশা চালক নাজির হোসেন বলেন, ব্রিজের সামনে এসে অটো থামিয়ে দেই। কারন ব্রিজটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। তাই গাড়ি নিয়ে উঠিনা। যাত্রীদের নামিয়ে দেই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন সরকার বলেন, উপজেলা সদরে যাওয়ার জন্য আমার ওয়ার্ডসহ মেঘনা উপজেলার কয়েকটি গ্রামের জনসাধারণের যাতায়াতের একমাত্র পথ এইটি। এই সেতুটি জরাজীর্ণ হওয়ার কারনে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান সরকার বলেন, এটি জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু। বর্তমানে সেতুটির ভয়াবহ অবস্থা। সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মান করার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। 

দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। জনসাধারণকে চলাচলে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ব্রিজটি নতুন করে নির্মানের জন্য অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এএইচপি