মতলবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে ইলিশ শিকার

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ১৮:৫৪

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের মধ্যে প্রকাশ্য দিবালোকেই চলছে ইলিশ শিকার। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রতিদিন নদীতে জাল ফেলছেন জেলেরা। নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একেবারে পাশেই এমন চিত্র দেখা গেলেও নেই কোনো দৃশ্যমান অভিযান বা আইনি ব্যবস্থা।

গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণে চাঁদপুর জেলার ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার নদীতে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সরেজমিনে মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পাশের ঘাটে দেখা যায়, একাধিক নৌকায় জেলেরা জাল প্রস্তুত করছেন। তারা কোনো ধরনের ভয় বা লুকোচুরি ছাড়াই প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইলিশ ধরার। এমনকি ছবি তুলতে গেলে জেলেরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ছবি তুলেন যত খুশি, ছবি তুলে কী হবে? সব লাইনঘাট গুছানো আছে।

এ সময় মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্র সংলগ্ন নদীতে দুই কিশোরকে মাছ ধরতে দেখা যায়। এছাড়াও দশানী ও ছটাকি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কিছু নৌকা জাল ফেলছে নদীতে।

মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির স্পিডবোট ঘাটের এত কাছে জেলেরা জাল নিয়ে প্রকাশ্যে নদীতে নামলেও, কোনো ধরনের অভিযান বা বাধা ছিল না।

ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী-এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি, ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত এই ২৫ কিলোমিটারের মেঘনা অঞ্চলে প্রকাশ্য দিবালোকেই জেলেরা মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারে যাচ্ছে এবং ইলিশ শিকার করছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী।

মুঠফোনে কথা হলে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস নৌ- পুলিশ ফাঁড়ির স্পিডবোট সংরক্ষণ স্থানের পাশেই বেশ কয়েকটি জেলে নৌকা জাল নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতির বিষয়টি স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন। এমনকি অনেক সময় তিনি নদীতে অভিযান থেকে ফেরার পথে প্রকাশ্যেই জেলেদের মাছ ধরতে মাঝ নদীতে যাচ্ছে এমন দৃশ্যও তিনি লক্ষ্য করেছেন বলে জানান।

ইত্তেফাক/এএইচপি