এনডিটিভি
ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রভাবশালী এক বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা একজন কিশোরী রহস্যজনক এক দুর্ঘটনায় তার আইনজীবীসহ গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার রায়বেরেলির ঐ দুর্ঘটনায় কিশোরীর চাচি ও তার পরিবারের অপর এক নারী সদস্য নিহত হয়েছেন। ঐ কিশোরী ও তার আইনজীবীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিশোরী বিপদমুক্ত হয়েছেন বলে উত্তর প্রদেশের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন। ২০১৭ সালে রাজ্যের বিজেপি বিধায়ক কুলদ্বীপ সেঙ্গার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছিলেন বলে অভিযোগ। ঐ অভিযোগে কুলদ্বীপ এক বছর ধরে জেলে আছেন।
এ দুর্ঘটনায় কুলদ্বীপের হাত আছে বলে অভিযোগ করেছেন ঐ কিশোরীর মা। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “বিধায়ক এটা ঘটিয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। সে জেলে থাকলেও তার কাছে ফোন আছে। জেলে বসে সে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। সেঙ্গার জেলে থাকলেও তার লোকজন তো আর জেলে নেই। সে ও তার লোকজন আমাদের হুমকি দিচ্ছিল। আমরা বিচার চাই।” রাজ্যের রাজধানী লক্ষ্নৌ থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে উন্নাওয়ে এই পরিবারটির বাড়ি। তারা সেখানেই বসবাস করেন। রবিবার বিকেলে রায়বেরেলির জেলা কারাগারে বন্দি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চাচার সঙ্গে দেখা করার জন্য একটি প্রাইভেট কারযোগে সেখানে গিয়েছিলেন ঐ কিশোরী ও তার সঙ্গীরা। পৃথক আরেকটি ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন তার চাচা।
ফেরার পথে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কিশোরীদের বহনকারী সাদা রঙের একটি গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে দেখা যায় দুর্ঘটনায় পড়া ট্রাকটির নাম্বার প্লেট কালো কালি দিয়ে ঢেকে রাখা আছে। আর নির্যাতিত ঐ কিশোরীর সঙ্গে যে নিরাপত্তারক্ষীরা থাকার কথা ছিল, তারাও তার সঙ্গে ছিলেন না।
রাজ্যের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি দুর্ঘটনা বলেই ধরে নেওয়া হয়েছে, তবে ঐ পরিবারটি যদি চায় তাহলে সিবিআইকে (সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) দিয়ে তদন্ত করতে সহায়তা করবেন তারা। ট্রাকের নাম্বার প্লেট কালি দিয়ে ঢাকা কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পুলিশ প্রধান জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
