সরকারি অর্থে সংস্কার করা একটি কক্ষ দখল করে নিজের সংসার সাজানোর অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সহর উদ্দিন সরকার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইমরান আলীর বিরুদ্ধে। তবে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ দাবি করেন। এর আগে ‘সরকারি স্কুলের কক্ষেই প্রধান শিক্ষকের সংসার!’ শিরোনামে ইত্তেফাক অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদটি প্রকাশের পর এক চিঠিতে শিক্ষক ইমরান আলী দাবি করেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তি কর। আমি বিদ্যালয়ের একটি পুরাতন ও অব্যবহৃত কক্ষ ব্যবহার করি শুধুমাত্র অফিস কার্যক্রমের সুবিধার জন্য এবং মাঝে মাঝে রাত্রিযাপন করা হয়। আমার পরিবার এখানে থাকে না। হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতিক্রমে ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পরামর্শে আমি পুরনো কক্ষে অবস্থান করি। যাতে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত তত্ত্বাবধান করা যায়।
তাছাড়া বিদ্যালয়টি গোচারণ ভূমিতে পরিণত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই সমস্যা ব্যক্তিগত অবহেলার কারণে ঘটেনি। বিদ্যালয়ের মাঠ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ব্যবহার করছে। ফলে মাঝে মাঝে পার্শ্ববর্তী এলাকার গবাদিপশু প্রবেশ করে। বিষয়টি স্থানীয় পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে, প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়।
তাছাড়া স্কুলটির শিক্ষকরা ইমরান আলীর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ করেন। সেই সঙ্গে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক। কিছু শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব গাফেলতির কারণে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নেওয়ায় হয়তো তাদের মধ্যে থেকে কেউ এ অপ্রচার চালিয়েছে। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ (বেসরকারি ) অডিট কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে এবং এটি ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে সম্পন্ন হবে। বিদ্যালয়ের সব আয় সরকার অনুমোদিত ব্যাংক হিসাবে জমা হয়, কোনো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নয়।
প্রতিবেদকের বক্তব্য
ইত্তেফাকে প্রকাশিত হওয়া ‘সরকারি স্কুলের কক্ষেই প্রধান শিক্ষকের সংসার!’ রিপোর্টের সব তথ্য সংশ্লিষ্টদের কথা বলে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক স্কুলের একটি কক্ষ দখল করে বসবাস করছেন,যার উদাহরণ প্রকাশিত একটি ছবি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি আবাসনে বসবাস করলে বিধিমত বাসা ভাড়া কর্তন করার কথা। কিন্তু তিনি এ নিয়ম নীতি মানছেন না; উল্টো ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন।
রেজিস্টেশন ফি বাবদ ৮ম শ্রেণির ১৬৭ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৫৫ টাকা করে বেশি নিয়েছেন বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের দাবি। এছাড়াও গতবছর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ ও কোচিং ফি বাবদ অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে। এখানে প্রতিবেদকের নিজস্ব কোনো মতামত প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাঠটি গো-চারণে পরিণত হয়েছে, তা যে কেউ দেখলেই অকপটে স্বীকার করবেন। এটি প্রশাসনিক দুর্বলতা।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের অশালীন আচরণ এটি ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। এ প্রতিনিধি একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন। যার বক্তব্য সংরক্ষিত রয়েছে।
আয়-ব্যয়ের হিসাব বিষয়ে একটি অডিট কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। প্রধান শিক্ষক ইমরান আলী বিষয়টি প্রতিবাদ লিপিতে স্বীকারও করেছেন। এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানটির কৃষিজ ও বাণিজ্যিক জমি ও ভবন থেকে আদায় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না করে প্রতিষ্ঠানটির বিএম (বেসরকারি) শাখার একটি ব্যাংক নম্বরে জমা রাখা হয়। যেটি আইন বিরোধী। প্রধান শিক্ষক কোন সরকারি কোষাগারে টাকা জমা রেখেছেন, তা তিনি দেখাতে পারেননি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনটি কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য প্রকাশ করা হয়নি এবং প্রতিবেদকের নিজস্ব কোনো মতামত প্রকাশ করা হয়নি।
