মাদারীপুর শহরের শাহ মাদার এতিমখানার অনুদানের অর্থসহ সরকারি তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ দুইজনের বিরুদ্ধে এক কোটিরও বেশি টাকার দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, মাদারীপুরের উপ-সহকারী পরিচালক মো. সাইদুর রহমান অপু বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। এরপর বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করেন দুদকের কর্মকর্তারা
অভিযুক্তরা হলেন- শাহ মাদার দরগাহ শরীফের সুপার মোহাম্মদ আল আমিন এবং মাদারীপুর সদর হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা শ্যামল পাণ্ডে।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা যৌথভাবে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেরা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। তারা সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নামে ভুয়া ফাইল তৈরি করে এবং জাল ব্যাংক হিসাব খুলে সরকারি এ অর্থ উত্তোলন করেন।
তদন্তে দেখা যায়, তারা প্রায় ৪৩ লাখ টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ইসলামী ব্যাংক মাদারীপুর শাখায় প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য ডিপোজিট স্কিমের অর্থে অনিয়ম করে ৪৭ লাখ টাকা এবং শাহ মাদার দরগাহ শরীফ এতিমখানার অনুদানকৃত ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।
দুদক জানায়, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় দুর্নীতি দমন আইন, ১৯৪৭ সালের ৫(২) ধারা অনুযায়ী মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদক সবসময় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে শাহ মাদার দরগাহ শরীফ এতিমখানার অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মাদারীপুর সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক বিশ্বজিৎ বৈদ্য নাদিম বলেন, আমি সদ্য শরিয়তপুর থেকে মাদারীপুরে বদলী হয়ে এসেছি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
