বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত চলতি শিক্ষাবর্ষের আলিম পরীক্ষায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার দুটি মাদ্রাসা থেকে একজন পরীক্ষার্থীও পাস করেনি। মাদ্রাসা দুটি হলো পুকুরপাড় এস এন্ড বি ফাজিল মাদ্রাসা এবং বন্যাকান্দি আলিম মাদ্রাসা।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমানের প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে। দুই মাদ্রাসা থেকেই এ বছর ১০ জন করে শিক্ষার্থী এইচএসসি সমমানের আলিম পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এই পরিস্থিতিতে মাদ্রাসা দুটির প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উল্লাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
মাদ্রাসা দুটির শিক্ষকরা দাবি করছেন, করোনা মাহমারীর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না পারা ও শিক্ষক সংকটের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
পুকুরপাড় ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. এনামুল হক বলেন, ‘করোনা কালে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ঘাটতি রয়ে গেছে তার প্রতিফল এখনও আমরা পাচ্ছি। তাছাড়া তার মাদ্রাসায় সব সময়ই আলিম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুবই কম ছিল। অনেক চেষ্টা করেও ছেলে মেয়েদের মাদ্রাসায় আনতে পারিনি। এরা একেবারে লেখাপড়া করে না।
বন্যাকান্দি আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান জানান, ‘আমাদের আলিম শাখাটি এমপিওভুক্ত নয়। এক সময় মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে এই শ্রেণিতে পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার পর যে সব শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল পরবর্তীতে তারা চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। ফলে একেবারেই ক্লাস হয়নি। এর ফলশ্রুতিতে তাদের ফলাফলে এবার এই বিপর্যয় ঘটেছে।’
উল্লাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, প্রকৃতপক্ষে মাদ্রাসাগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি কম। পাশাপাশি তারা কেউ লেখাপড়াও করে না। উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে উল্লেখিত দুটি মাদ্রাসা প্রধানকে একজন শিক্ষার্থীও পাশ না করার কারণে কারণ দর্শানো পত্র (শোকজ) দেওয়া হবে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হবে।
