শাহজালাল বিমানবন্দরের আগুনে রূপপুর প্রকল্পের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি!

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৫, ২১:১১

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ার যে দাবি করা হয়েছিল, তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেউই কোনও ধরনের তথ্য জানেন না।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় রাশিয়া থেকে আনা রূপপুর প্রকল্পের ১৮ টন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছিলেন মমতা ট্রেডিং কোম্পানির কথিত কর্মকর্তা সরকার বিপ্লব হোসাইন। তিনি দাবি করেন, এনওসি জটিলতার কারণে মাল খালাস না হওয়ায় সেগুলো আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে মমতা ট্রেডিংয়ের একজন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, “আমরা রূপপুর প্রকল্পের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নই। বিপ্লব হোসাইন নামে আমাদের প্রতিষ্ঠানে কেউ কাজ করেন না।”

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, রূপপুরের মালামাল সাধারণত পানিপথে আনা হয়, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বিমানে আসে। এসব মালামাল প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে পড়ে। তার আগে দায় থাকে রাশিয়ান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ওপর।

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনার পর রাশিয়ানদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই। মমতা ট্রেডিং নামের কোনো প্রতিষ্ঠানকে তারা কোনো সাব-কন্ট্রাক্টও দেয়নি।”

তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, রাশিয়ার মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছু স্থানীয় সাব-কন্ট্রাক্টর নিয়োগ দিয়ে থাকে, যারা আবার অন্য প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিতে পারে। ফলে প্রকৃত উৎস ও মালামালের মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

এই ঘটনায় প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন পর্যন্ত রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, পাবনার ঈশ্বরদীতে রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিতব্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ইউনিটে ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ চলছে। প্রথম ইউনিটে এখন চলছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম।

ইত্তেফাক/এএম