দেবীগঞ্জের ১১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

২০ বছর ধরে চাকরি, বেতন নেই ৯৫ শিক্ষক-কর্মচারীর

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৫, ১৪:০৩

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২০ বছর ধরে ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি করছেন ৯৫ জন শিক্ষক ও কর্মচারী। বেতনভুক্ত না হওয়ায় দুঃসহ পরিস্থিতিতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। অনেকের অবসরের সময় ঘনিয়ে এসেছে।

জানা গেছে, চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী আগামী চার বছরের মধ্যে অবসরে যাবেন অনেক শিক্ষক।

সূত্রমতে, দেবীগঞ্জ উপজেলায় নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৮টি। এদের মধ্যে গত বছর সেপ্টেম্বরেও সাতটি বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত হয়েছে। এমপিওভুক্ত সাতটি বিদ্যালয়ের ইএফটি বা ইলেকট্রলার ফান্ড ট্রান্সফারের কাজ চলছে। বাকি ১১টি বিদ্যালয় এখনও এমপিওভুক্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এর মধ্যে একটি কলেজের এমপিও হয়নি।  

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়গুলো পাঠদানের অনুমতি পায় ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে। সেই হিসেবে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৫ থেকে ২৭ বছর ধরে পাঠদান চলছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, ভালো ফলাফল করছেন।

শিক্ষকরা দাবি করছেন সরকারের দেওয়া এমপিওভুক্তির যাবতীয় শর্তাবলী পূরণ করেছেন। তবুও তাদের এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে না।

উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের লক্ষীর হাট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিতাই চন্দ্র রায় বলেন,  ২৫ বছর ধরে আজ পর্যন্ত বেতন ছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াচ্ছি। আমার সংসার এখন অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু। জীবনের সবটুকু সোনালী সময় এই বিদ্যালয়ে ব্যয় করেছি, বিনিময়ে এক টাকাও ভাগ্যে জোটেনি। বেঁচে থাকলে হয়তো আর কয়েক বছর পর অবসরে যাবো। সরকারের কাছে অনুরোধ, শিক্ষকদের জন্য না হলেও এই প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখতে অতিদ্রুত এমপিওভুক্ত করুন।

উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নে অবস্থিত কালীগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার ৯৭ শতাংশ বেসরকারি। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হলে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমার কলেজ ২৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরাই এখন দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছে, অনেকে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে দেশের সেবা করছে। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের খেয়ে পড়ে বাঁচার নিশ্চয়তাটুকুও আজ পর্যন্ত হলো না।

উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নে অবস্থিত ছলিমনগর তোপকাচারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মো. কফিল ইসলাম বলেন, আমাদের নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো একাডেমিক স্বীকৃতি ও পাঠ দানের অনুমতিসহ এমপিওভুক্তির সকল শর্ত পূরণ করেছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সংসার চালাতে, ছেলে মেয়ের পড়ালেখা খরচ যোগান দিতে না পেরে অনেক শিক্ষক স্কুল বন্ধের সময় কুলি-মজুরের কাজ করেন, রিকশা চালিয়ে জীবন যাপন করছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্তির বিষয়ে সরকার আমাদের বারবার আশ্বস্ত করলেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আমরা আবারও আন্দোলনে যাবো।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইফুল আলম বলেন, নন এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি করা বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যাপার। আমরা মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠ্য পুস্তক সরবরাহসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

ইত্তেফাক/এপি