বাবাকে পিটিয়ে হত্যার পর ডাকাতির নাটক

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৯, ২১:৫১

ভার্সিটি ও কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়ের স্বীকারোক্তি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পারিবারিক কলহ ও দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ থেকে নিজ বাসায় বাবাকে কাচের ভারী মগ দিয়ে আঘাতের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছে তারই দুই সন্তান। শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে খুনসহ ডাকাতির ঘটনা সাজিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, হত্যাকাণ্ডের শিকার ষাটোর্ধ্ব মহিবুল্লাহর ছেলে শামীম হাসান ও মেয়ে মহসিনা আফরোজ প্রীতিকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে খুনের রহস্য বেরিয়ে আসে। গতকাল সোমবার ডিসি ওয়ারী অফিসে প্রেস ব্রিফিংয়ে যাত্রাবাড়ীর মমিনবাগে নিজ বাসায় খুনসহ ডাকাতির ঘটনার প্রকৃত তথ্য দেন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান।

খুনসহ ডাকাতির ঘটনাটি সাজানো ছিল উল্লেখ করে ডিসি ওয়ারী বলেন, গত রবিবার সকাল ৬টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার কোনাপাড়া মোমেনবাগে এ/সি-৩৬ নম্বর বাড়িতে খুনসহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, এমন সংবাদে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। বাসায় গিয়ে দেখি রুমের খাটের ওপর ষাটোর্ধ্ব মহিবুল্লাহর মৃতদেহ পড়ে আছে। মৃতদেহের মাথায় আঘাত ও বিছানায় রক্ত জমাট বেঁধে আছে এবং বাসার কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র এলোমেলো পড়ে আছে। আমরা মহিবুল্লাহর স্ত্রী হাসিনা ফেরদৌস, ছেলে শামীম হাসান ও মেয়ে মহসিনা আফরোজ প্রীতির সঙ্গে কথা বলি। তারা ডাকাতির ঘটনা বলে এবং ডাকাতরা তাদের বাবাকে হত্যা করেছে বলে পুলিশকে জানায়। কিন্তু তদন্তকালে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও তাদের দেওয়া তথ্যের মধ্যে অমিল এবং কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়া যায়। এমনকি বাবার লাশ বাসায় রেখে ছেলে শামীম পরীক্ষায় অংশ নিতে চলে যান। এতে আমাদের আরো বেশি সন্দেহ হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে যে যার যার রুমে শুয়ে পড়ে। এমন সময় তার মাকে মারধর করে বাবা। সে সময় পাশের ঘর থেকে এসে মেয়ে প্রীতি প্রতিবাদ করায় প্রীতিকেও মারধর করে মহিবুল। তখন ছেলে শামীম সেখানে আসে। ছোটোবেলা থেকে শামীম দেখে আসছেন, তার বাবা মাকে ও তাদের মারধর এবং গালাগালি করতেন। এ কারণে বাবার প্রতি তাদের তীব্র ঘৃণা ও দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। এই ক্ষোভ ও ঘৃণার কারণে শামীম তার বাবার গলা চেপে ধরে ও প্রীতি পাশে থাকা কাচের ভারী মগ দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করলে তিনি বিছানায় ঢলে পড়েন। পরে বাবার মৃত্যু নিশ্চিত করতে আলমারি থেকে রশি এনে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেন। এর পরে তারা হত্যার দায় থেকে বাঁচতে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতির নাটক সাজাতে আলমারি থেকে কাপড় বের করে রুমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে এবং রুমের মধ্যে বাইরে থেকে আসা জুতার ছাপ দিয়ে ডাকাতির ঘটনা সাজায়। এর পর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আশপাশের ভাড়াটিয়া প্রতিবেশীদের চিত্কার করে জানায়, তাদের বাসায় ডাকাতি হয়েছে, ডাকাতরা তার বাবাকে খুন করেছে। এ ঘটনায় নিহত মহিবুল্লাহর ভাই বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। ঐ মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। 

নিহত মহিবুল্লাহর মেয়ে মহসিনা আফরোজ প্রীতি মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও ছেলে শামীম একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আরেক মেয়ে হাসনা হেনার বিয়ে হয়েছে।