দাবি আদায়ে অনড় শিক্ষকরা

  • পাঠদান বন্ধ করে চলছে অনশন 
  • আজ মুখে কালো কাপড় বেঁধে শাহবাগে অবস্থান 
  • সব জেলা-উপজেলায় এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি 
  • বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের সংহতি
আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:০০

দশম দিনে গড়িয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন। মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাতা, ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার দাবিতে অনড় তারা। দাবি আদায়ে গতকাল সোমবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। রবিবার সরকার মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা) বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষকরা। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলোতে চলছে কর্মবিরতি। শিক্ষকদের আন্দোলন ঘিরে বিপাকে পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দাবি যৌক্তিক উল্লেখ করে তারা একাধিকবার বৈঠক করেও সুরাহা করতে পারেনি। আন্দোলনরতরা চাচ্ছেন মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া। প্রথম ধাপে ১০ শতাংশ এবং পরের বছরে ২০ শতাংশ করার নিশ্চয়তা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও চাচ্ছে আপাতত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ১০ শতাংশ করতে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় ৫ শতাংশের বেশি দিতে চায় না। দুই মন্ত্রণালয়ের রশি টানাটানিই মূলত দাবি আদায়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটে’র ব্যানারে গত ১২ অক্টোবর থেকে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

আলটিমেটাম, যমুনা ঘেরাওয়ের হুমকি: গতকাল সোমবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশ শেষে অনশনস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে। জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজি জানান, দাবি আদায়ে আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নিব। পাশাপাশি আজ থেকে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১২টা জেলা ও উপজেলা সদরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। দাবি পূরণে শিক্ষা উপদেষ্টাকে দুই দিনের সময় বেধে দিয়ে অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজি বলেন, আমরা আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করব। এরপরও যদি আমাদের দাবি পূরণের প্রজ্ঞাপন না হয়, সবাইকে ঢাকায় এনে আমরা যমুনা ঘেরাও করব।’ তিনি শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষা উপদেষ্টার অধীনে সব প্রশিক্ষণ বর্জনেরও আহ্বান জানান। এদিকে অনশনরত চার জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন দল ও সংগঠনের সংহতি প্রকাশ: কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এসে আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। এদের মধ্যে রয়েছে: বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, নাগরিক ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, ডাকসু, জাকসু, এবি পার্টি, বাংলাদেশ শিক্ষক ফোরাম, ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ইনকিলাব মঞ্চ ও ইসলামী ছাত্রশিবির।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে শিক্ষকদের জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নীতিগতভাবে আপনাদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে দলের প্রশিক্ষণ সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। রাতে শহিদ মিনারে গিয়ে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

দুই মন্ত্রণালয়ের ‘রশি টানাটানি’: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার ও সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করতে চাচ্ছেন। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সবুজ সংকেত আসছে না। শিক্ষা উপদেষ্টা অন্য উপদেষ্টাদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এমনকি গত শুক্রবার জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেও তিনি শিক্ষকদের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে আপাতত ১০ শতাংশ করার কথা বলেন। তিনি আরও জানান, সি আর আবরার সম্প্রতি দুই বার অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় তারা ইতিবাচক হতে পারছে না।

ইত্তেফাক/এমএএম