বরিশাল নগরীর দুই প্রবেশদ্বারে নির্মিত রূপাতলী বাস টার্মিনাল ও নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে প্রতিদিন গড়ে আড়াই লাখেরও বেশি যাত্রীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। বরিশাল সিটি করপোরেশনের অধীন তিন একর জায়গা বিশিষ্ট এ টার্মিনাল বছরের প্রায় সব সময়ই হাঁটু সমান পানি কিংবা কর্দমাযুক্ত থাকে। সারা দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের এ টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের তেমন সুযোগ সুবিধা নেই। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রী চাপ বিবেচনায়ও কোনো পদক্ষেপ নেই টার্মিনালগুলোতে। গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশেষ সমন্বয় সভায় জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান যাত্রী সেবা বৃদ্ধি করতে নির্দেশনা দেন। জেলা প্রশাসক কক্ষে ঐ সভায় রূপাতলী বাস মালিক সমিতির নেতারা টার্মিনালে অব্যবস্থাপনা নেই দাবি করেন এবং বিসিসি থেকে টার্মিনাল সংস্কারের কথা জানান। এসময় জেলা প্রশাসক যাত্রী সেবা বিবেচনায় মালিক সমিতির কল্যাণ ফান্ড থেকে ঈদুল আজহায় যাতায়াতকারী যাত্রীদের সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
বিসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান জানান, রমজানের ঈদে রূপাতলী বাস টার্মিনালের যাত্রী দুর্ভোগ লাঘবে বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ব্যক্তিগতভাবে সংস্কার করেছেন। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বিসিসির টেন্ডার কার্যক্রমের মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা ও নিচু জায়গা ভরাটের কাজ হয়েছে। সরেজমিনে রূপাতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে— দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি রুটের ১০টি মালিক সমিতির অধীন এক হাজারের বেশি বাস-মিনিবাস চলাচল করছে। স্বাভাবিক সময়েই দু’ লাখের বেশি মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করলেও টয়লেট ব্যবস্থা নেই। পাবলিক টয়লেটের নামে বিসিসি থেকে ইজারা নেওয়া রূপাতলী বাস টার্মিনালের উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে যেতে হলে প্রয়োজন পড়বে নৌকার। খানাখন্দে ভরপুর এ টার্মিনালের যাত্রীতের হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের যেতে হয় পাবলিক টয়লেট। টাকা দিয়েও ঐ টয়লেটের সামনে গিয়ে আর ভেতরে প্রবেশ করতে চান না সাধারণ যাত্রীরা। কিন্তু বিসিসি কিংবা মালিক সমিতির নজর নেই সেদিকে। কাউন্টারে টিকিট কেটে দীর্ঘক্ষণ বৃদ্ধ, নারী, শিশুদের দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। কিছুক্ষণ দাঁড়ালে বখাটের নানান অশ্লীল ভাষ্য শুনতে হয় কিশোরী, তরুণী ও নারী যাত্রীদের। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে মারধরেরও শিকার হতে হয়। তবে নগরীর অপর প্রবেশদ্বার নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে হাঁটু সমান পানি না থাকলেও পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা। খানাখন্দ তো আছেই। এ টার্মিনালে ২৪ ঘণ্টাই যাত্রী পরিবহন করলেও নেই কোনো বিশ্রামাগার। টার্মিনালের নিজস্ব কোনো টয়লেট না থাকলেও বিসিসির ইজারাকৃত একটি পাবলিক টয়লেট ও প্রভাবশালী মহলের ছত্র-ছায়ায় গড়ে ওঠা বাকি দু’টি পাবলিক টয়লেটও যাত্রী বান্ধব নয়। বখাটেদের উত্পাত থাকলেও কারো নজর নেই।
