ডেঙ্গু নিয়ে শঙ্কা

চট্টগ্রামের হালিশহরে ঘরে ঘরে ডায়রিয়া

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৯, ২২:০৮

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্তের পাশাপাশি নগরীর হালিশহর এলাকায় ঘরে ঘরে পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ডেঙ্গু রোগের চিকিত্সা নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি সরকারি হাসপাতাল ও সিটি করপোরেশন রোগের চিকিত্সা ও রোগ নির্ণয় নিয়ে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

নগরীর হালিশহর এলাকায় হঠাত্ ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য নারী, পুরুষ ও শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হচ্ছে। ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি সূত্র জানায়, গত ১২ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৪০০ রোগী হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছে। আর গত তিন দিনে ভর্তি হয়েছে ৮০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ শতাংশ নগরীর হালিশহর এলাকার রোগী। চিকিত্সকরা জানান, ডায়রিয়া মূলত পানিবাহিত রোগ। সম্প্রতি ভারী বর্ষণে নগরীতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে কয়েকদিন পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে। এর ফলে টিউবওয়েল,পানির রিজার্ভার ডুবে ও পাইপলাইনের ছিদ্র দিয়ে দূষিত পানি ঢুকে পড়ে পানিকে দূষিত করেছে। অধিকাংশ পানির রিজার্ভারে ঢাকনা নেই। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মো.কাজী এয়াকুব সিরাজদ্দৌলা ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা হালিশহর থেকে কয়েকজন গ্রাহকের পাইপলাইন ছিদ্র হওয়ার অভিযোগ পেয়ে ছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে লোক পাঠিয়ে মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। এরপর আর কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি।’

বিআইটিআইডি হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগ রোগী হালিশহরের সবুজবাগ, নয়াবাজার, ছোটপুল, বড়পুল ও হালিশহর আবাসিকএলাকার বাসিন্দা। আক্রান্তরা হাসপাতাল ছাড়াও চিকিত্সকদের প্রাইভেট চেম্বারে ভিড় জমাচ্ছে। বিআইটিআইডির  সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশিদ ইত্তেফাককে বলেন, গত ১৬ জুলাই থেকে ডায়রিয়া রোগী আসতে শুরু করেছে। এই পর্যন্ত প্রায় ৪০০ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী চিকিত্সা নিয়েছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে পানি শূন্যতাও পাওয়া গেছে। তবে মারাত্মক পানি শূন্যতার কারণে একিউড কিডনি ইনজুরিতে  আক্রান্ত ১৫ জনকে চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য গত বছর হালিশহরে পানিবাহিত রোগ জন্ডিসের প্রকোপ দেখা দেয়। এতে তিন জনের মৃত্যুও ঘটে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সার জন্য চমেক হাসপাতালে পৃথক ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। মেডিসিনের তিনটি ওয়ার্ডে প্রতিটিতে ২০ শয্যা করে ব্লক করা হয়েছে। চিকিত্সাধীন ডেঙ্গু রোগীদের মশারি টাঙ্গিয়ে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমানে ৬১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে হাসপাতালের ল্যাবে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা যাবে।’ আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা.নুরুল হক বলেন, ইতিপূর্বে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অনেক রোগী চিকিত্সা নিয়ে চলে গেছে। বর্তমানে দুই জন শিশুসহ ছয় জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে।’ এছাড়া সিটি করপোরেশন তাদের জেনারেল হাসপাতালে গতকাল সোমবার থেকে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার সেবা চালু করেছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন শহর এলাকায় মশক নিধনে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে। কিন্তু নগরবাসী মশকনিধন কার্যক্রমের কোনো দৃশ্য দেখতে পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ডেঙ্গুর জীবাণু বাহক অ্যাডিস মশার উত্পত্তি স্থল পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ইত্তেফাককে বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য জেলার হাসপাতালগুলোতে এনএস-ওয়ান কীট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোগীরা  বিনামূল্যে পরীক্ষার সুযোগ পাবে।’