আগামী পহেলা আগস্ট থেকে পণ্য রাখা বাবদ চার্জ বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর মালিকরা। এতে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা)-এর সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান বলেন, ৩ বছর পর আমরা ডিপোর চার্জ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের অনুরোধে শতকরা সাড়ে ৪২ ভাগ চার্জ বাড়ানোর স্থলে মাত্র ২০ ভাগ বাড়ানো হয়। বর্তমানে পহেলা আগস্ট থেকে বাকি সাড়ে ২২ ভাগ চার্জ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, রপ্তানির সম্পূর্ণ অর্থাত্ বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলারের সবগুলো বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর মাধ্যমে হয়ে থাকে। এছাড়া আমদানি পণ্যের শতকরা ২২ ভাগ বেসরকারি ডিপোর মাধ্যমে হয়। তিনি বলেন, ১৮টি ডিপোতে প্রায় ৩৫ হাজার লোক কাজ করে। দেশের সবক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধি হলে, তাদের চার্জ বাড়বে না কেন? এ খাতে কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। অথচ কেউ এ খাতকে পাত্তা দেয় না। তিনি চার্জ বৃদ্ধির ব্যাপারে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন।
বিকডার সভাপতি আরো বলেন, গত এপ্রিল মাসে বর্ধিত চার্জের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে। তা এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধান হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু গত তিন মাসে কয়েকটি মিটিং ছাড়া কিছুই হয়নি। তিনি বলেন, বন্দর একটি কনটেইনার রাখার জন্য ৩ ডলার নেয় কিন্তু অফিসিয়ালি ১০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও ৭০/৮০ টাকার বেশি নেই না আমরা।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে যে সকল পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয় সেগুলো প্রথমে বেসরকারি ডিপোসমূহে আনা হয়। পরবর্তীতে উক্ত ডিপো থেকে সরাসরি নির্দিষ্ট জাহাজে তোলা হয়। মূলত চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট কমানোর জন্য বেসরকারি ডিপোর অনুমতি দেয়া হয়। একইভাবে বিদেশ থেকে আমদানি পণ্যসমূহের মধ্যে ৩৭টি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজ থেকে নির্দিষ্ট ডিপোসমূহে চলে যায়। ঐ ডিপোতেই পণ্যের শুল্কায়ন শেষে আমদানিকারকরা তাদের পণ্য নিয়ে যান।
এদিকে বেসরকারি ডিপো মালিকরা তাদের চার্জ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার প্রেক্ষিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে এর বিরূপ দিক তুলে ধরেন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি এমএ সালাম। তিনি জানান, রপ্তানিখাত বিশেষত গার্মেন্টস সেক্টর বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যে শ্রমিকদের বেতন বেড়েছে। গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। আগামীতে বিদ্যুতের দামও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস সেক্টর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সরকার ট্যারিফ বৃদ্ধি নিয়ে একটি কমিটি করে দিয়েছেন।
