নবাবগঞ্জে খালের তীব্র ভাঙনে দিশেহারা দুই পাড়ের মানুষ

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ০০:১২

ঢাকার নবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর সঙ্গে ইছামতী নদীর সংযোগ স্থাপনকারী সাদাপুর খালের তীব্র স্রোতে দুই পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতি বছর বর্ষার সময় এ খালপাড়ে ভাঙন দেখা দেয়। এতে গত কয়েক বছরে বসতভিটা হারিয়েছে কয়েকশ মানুষ। এবারও ভাঙনের কবলে পড়েছে খালের দু’পাড়ের শতাধিক পরিবার। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হতে হবে তাদের।

গত ১ মাসের ভাঙনে এ খালপাড়ের সৈয়দপুর, হযরতপুর, সাদাপুর, আলহাদিপুর, সাহেবখালী গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। খালের তীব্র স্রোতে ভেঙে পড়ছে দু’পাড়ের বাড়ি-ঘর, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ ফসলি জমি। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। অব্যাহত ভাঙনে ঐ এলাকার ২ শতাধিক পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

কথা হয় সাদাপুর গ্রামের বাসিন্দা বলাই সূত্রধরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়িটি ছিল ২৮ শতাংশ। গত ২ বছরে ভেঙে এখন আছে ১৩/১৪ শতাংশ। এখনই যদি ভাঙন রোধ করা না যায় তাহলে আগামী বছরই পুরো বাড়ি খালের মধ্যে চলে যাবে।’

স্থানীয়রা জানান,  সাদাপুর খালের ভাঙন ঠেকাতে ৬/৭ বছর আগে এলাকাবাসীর উদ্যোগে সাহেবখালী এলাকায় নদীর মুখে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। ৪ বছর আগে তা ভেঙে যায়। এ বছর ভাঙনের তীব্রতা বেশি। ভাঙন প্রতিরোধে সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে এ খালের তীর রক্ষার ব্যবস্থা না নিলে কয়েকশ পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে যাবে।

সাদাপুর গ্রামের ভাঙনকবলিত অঞ্জনা সাহা বলেন, ‘ভোটের সময় সবাই আহে, ভোটের জন্য, কিন্তু ভোট ফুরাইলে আর কেউ আহে না। আমাগো হগলের বাড়িঘর ভাঙা যাইতাছে. কেউ আমাগো খবর লয়  না।’ স্থানীয় শেফালী সূত্রধর বলেন, প্রতি বছরই মেম্বারসহ অনেকে এসে ছবি ও নাম নিয়ে যায়। পরে ত্রাণ হিসেবে চাল দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা তো ত্রাণ চাই না, ভাঙনরোধে পদক্ষেপ নেওয়া হোক এটাই আমরা চাই। বাড়িঘর না থাকলে চাল দিয়ে কী করব। মিনতি সাহা নামে আরেকজন বলেন, ‘যে চাল দেওয়া হয় তা এত নিম্নমানের যে খাওয়া যায় না।’ সহদেব জানালেন, তার পুরো বসতবাড়ি খালের গর্ভে চলে গেছে। এখন অন্যের বাড়িতে বসত করি। এখনই ভাঙন রোধ করা না গেলে তার মত আরো অনেককে নিঃস্ব হতে হবে।

বান্দুরা ইউপি চেয়ারম্যান মো. হিল্লাল মিয়া বলেন, পদ্মা ও ইছামতির ঐ শাখা খালের ভাঙনে প্রতি বছরই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখনই ভাঙন রোধ করা না গেলে অনেক পরিবারই বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে। কর্তৃপক্ষের উচিত ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।