টেলিনরের রিসার্চ টিম বলছে, টেকনোলজি ট্রেন্ডের মাধ্যমে আমরা কীভাবে গ্রাহক আয়ত্ত করি, কীভাবে আমরা যোগাযোগ স্থাপন করি এবং ২০১৯ সালে চারপাশের বিশ্বকে কীভাবে উপলব্ধি করবো তার ৭টি প্রযুক্তি আমাদের প্রযুক্তি বিশ্বকে চমকে দিবে। প্রযুক্তি বিশ্বের বিপজ্জনক একটি বছর পরে বিপত্তি ও সাফল্যে টেলিনর গ্রুপের গবেষণা দল, টেলিনর রিসার্চ ২০১৭ সালে ৭টি প্রযুক্তির প্রবণতাকে চিহ্নিত করে। আসছে বছরে চিহ্নিত উচ্চ প্রযুক্তির কোনো অভাব হবে না। ধারণা করা হচ্ছে অনেকগুলো প্রযুক্তি প্রবণতার মধ্যে প্রযুক্তি খাত প্রতিফলিত হবে। এই সাতটি প্রযুক্তি নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন।
বিস্তারিত লিখেছেন মাহবুব শরীফ
আইওটির শৈল্পিক রূপ

২০১৯ সাল হবে শিল্পে আইওটি ব্যবহারের সম্পর্কে জানার বছর। সম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে কয়েক মাস ধরে দেখা যাচ্ছে বড় ধরনের বণিজ্যিক ইকোসিস্টেমে লো পাওয়ার ওয়াইড এরিয়া (এলপিওএ)। আশাকরা যাচ্ছে ইকোসিস্টেমে এলপিডব্লিউএ চলতি বছরই শেষ হবে। বড় আকারের শিল্প অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে পরিবর্তন আসতে সময় নির্ধারণ করে দেয়াটা অনেক কঠিন। এই প্রযুক্তিটির ফলে, স্মার্ট শহর, শিল্প উত্পাদন , শিপিং ও ট্রাফিক পর্যাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে আসবে আমূল পরিবর্তন। এক কথায় বলা যায়, ২০১৯ সালে ইন্টারনেট অব থিংকস ইন্ড্রাস্ট্রিয়ালের আকার ধারন করবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
২০১৭ সালে আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)প্রযুক্তি নিয়ে ভবিষ্যদ্বানী করে ছিলাম। এখন সেটি বাস্তবায়নের সময় হয়েছে। এআই প্রযুক্তি প্রত্যেকটি শিল্প ও সমাজকে প্রভাবিত করছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এআই প্রযুক্তি হলো সেই প্রযুক্তি যা নিরাত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে জনসারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। আগামী বছর আমরা দেখতে পাবো পাবলিক ও প্রাইভেট কোম্পানিগুলো এআই গর্ভনেন্স ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে কাজ করছে এবং নতুন নৈতিক মান উন্নয়নে কাজ করছে। এই প্রযুক্তিটি সম্পূর্ণরুপে চালু হলে এআই শিক্ষার জন্য প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণের জন্য নতুন প্লাটফর্মের পাশাপাশি উন্নয়নের জন্য এই খাতে নতুন নতুন বিনিয়োগ আমরা দেখতে পাবো। উচ্চমানের উদ্ভাবনী চর্চা নৈতিকভাবে বাধাগ্রস্থ হতে পারে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আমেরিকা ও চায়নার ইকোসিস্টেমে বিশাল পরিবর্তন আসতে পারে। পরবর্তনীয় দেশ হিসেবে আপাতত ইউরোপকেই ধরা হচ্ছে।

বাণিজ্যিক যোগাযোগ সুদৃঢ় করবে ৫জি
২০১৭ সালটি ৫জি পরীক্ষার বছর ছিল। একটি কম্পিউটার কয়েক মিটার দূর থেকে ৫জি সিগন্যালে সংযুক্ত হতে পারে যদি তাতে ৫জি ফ্রিকোয়েন্সি থাকে। ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় শীতকালীন অলেম্পিকে ৫জি ড্রোনের ব্যবহার দেখেছি। আসছে ২০১৯ সাল। আমরা দেখবো ’৫জি’র দ্বীপকুঞ্জ’ বিশ্বজুড়ে পাইলট ও ট্রায়াল ভার্সনে ৫জি প্রযুক্তি ব্যবহার হবে। ইউরোপ থেকে উত্তর আমেরিকা ও উত্তরপূর্ব এশিয়া অঞ্চল নির্বাচিত ব্যবসায়ী নেটওয়ার্কে পরিনত হবে। ২০১৯ সালই হবে প্রথম বছর যে বছরে প্রথম ৫জি পাইলট শহর হিসেবে নরওয়ের শহরগুলো এর সুবিধা ভোগ করতে শুরু করবে। যদিও ৫জি বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত হবে। ২০১৯ সালে ৫জির বাণিজ্যিক অগ্রগতি দেখতে পাওয়া যাবে। ৫জি প্রযুক্তিতে স্ব-চালিত গাড়ি থেকে শুরু করে টেলিভিশন ও ব্রডব্যন্ড ইন্টারনেটে এর প্রভাব ২০১৯ সালে দেখা দিবে এবং ২০২০ সালে বণিজ্যিকভাবে বাজারে আসবে।

চ্যাটবট ফ্যামিলি
চ্যাট করার জন্য পাঠ্যভিত্তিক চ্যাটবটগুলো বর্তমানে যেভাবে কাজ করছে সেগুলোর সীমাদ্ধতা দূর করে অধিকতর কাজ করার জন্য গবেষণা হচ্ছে। তারা মূলত ডিভাইসগুলিতে- বিশেষ করে ২০১৯ সালে ভয়েস অ্যাক্টিভেটেড করার জন্য চ্যাটবটগুলি নিয়ে কাজ করছে। যদিও তারা এখনও ভাল সিস্টেম তৈরি করতে পারে নি কিন্তু তারা আশাবাদী যে তাদের চ্যাটবডগুলো সফলতা অর্জন করবে এবং চ্যাটবটের মাধ্যমে আমরা বর্তমানের তুলনায় আরো দ্রুত এবং স্বল্প সময়ে ঘবে বসে সার্ভিস নিতে পারবো। তারা মনে করে, ২০১৯ সালে ভয়েস নিয়ন্ত্রিত চ্যাটবটগুলি সফলতা অর্জন করবে এবং অধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করবে। তার ফলে বর্তমান বটগুলোর সীমাবদ্ধতা দূর হয়ে ভয়েস-স্বীকৃতি অ্যাপ্লিকেশনগুলি দ্রুত কার্যকর হবে এবং তারা এটি ভালভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম হবে। এই চ্যাটবটগুলো ২০১৯ সালে ঘরে বসে ছুটির দিনগুলিতে চ্যাট করার ক্ষেত্রে বাজারে থাকা চ্যাটবটগুলি থেকে শীর্ষে থাকবে।

স্ক্রিন টাইম
স্মার্টফোন স্ক্রিনে বা পর্দায় সময়ের মাপকাঠি বা সময় দেখা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। জীবনমানে সময়ের স্মুথলি ব্যবহারে মানুষ ক্রমশ স্ক্রিন টাইম ট্র্যাকিং অ্যাপস ব্যবহার করছে; যা ডেভেলপাররা স্মার্টফোনের এই অভিজ্ঞতাটি আমাদের ডিভাইসগুলির সহজ ব্যবহার এবং পরিচালনা করতে সক্ষম করেছে। ২০১৯ সালে স্ক্রিনের সময় সচেতনতা এবং শৃঙ্খলা বাড়ানোর ফলে এর লাভে বিকাশে বাজারে ঝড় হবে। নতুন অ্যাপ্লিকেশন এবং সফটওয়্যার ব্যতীত আমরা বিভিন্ন সামাজিক এবং পেশাদারী কাজে সময় ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে খাবার এবং বিভিন্ন মিটিংয়ে অংশগ্রহণে মোবাইল স্ক্রিনে টাইমের ব্যবহার সাধারণ হয়ে উঠছে। প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রি এবং বিভিন্ন প্রচারাভিযানে স্ক্রিনে সময়ের ব্যবহার করে আমরা অভ্যস্থ হয়ে উঠেছি। স্ক্রিনে সময়ের ব্যবহারে অন্যান্য ছোট সংযুক্ত ডিভাইসগুলি ফ্লিপ ফোনের রূপ কাজ করছে।

গ্রিনটেক
মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে বড় অংশে সহায়তায় ২০১৯ সালে সবুজ খরচ, সচেতনতা এবং সবুজ প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য একটি উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ২০১৮ সালের শেষের দিকে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনের আন্তঃসরকার প্যানেল সবুজ প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনে মোবাইল ব্যবহারে মানুষের ক্ষতি থেকে উত্তোরণে মোবাইল চালিত সবুজ প্রযুক্তির তরঙ্গ সাহায্য করবে। ২০১৯ এই তরঙ্গটি তার অনেক প্রয়োজনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে। ইতোমধ্যে, সবুজ প্রযুক্তি ক্ষমতা অর্জন করেছে। যা ইতোমধ্যে খাদ্য বর্জ্য, গাড়ির প্ল্যাটফর্ম, সাইকেল-ভিত্তিক খাদ্য সরবরাহ, বৈদ্যুতিক গাড়িগুলির মতো গ্রিনটেক অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য প্রমাণ করেছে, যদিও এটি দাবি করা হয় না। সার্বিক স্তরে, সরকারি নীতি, গ্রিনটেক ডেভেলপ, ভোক্তা গ্রহণযোগ্যতা এবং সামাজিক অবস্থা; এই চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নরওয়েতে ২০১৯ সালে সবুজ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
ডিপফেক :সত্যই সুন্দর
সোশ্যাল মিডিয়া ও মেসেজিং অ্যাপে ফিন্টারের মাধ্যমে যদি ব্যবহারকারীরা আতঙ্কিত। আইফোন টেন (এক্স) এই ধারনাটি দিয়েছে। এই প্রযুক্তিটি আরো অগ্রগামী করে তুলবে। টমত্রুসের মুখোশ উন্মোচন কি আসলেই অসম্ভব? ঠিক আছে, সাইবার স্পেসে এই ধরনের মিশন এখন অসম্ভব নয়। প্রযুক্তি বিশ্বে ‘ডিপফেক’ উদ্ভাবন হয়েছে। এটি উদ্ভাবিত হয়েছে ডিপ লার্নিং এর মাধ্যমে যখন থেকে ফেক নিউজ প্রচার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ছবি ও ভিডিও রয়েছে। ২০১৯ সালে ডিপফেক নিয়ে আরো গুরুতর কাজ শরু হবে । কারণ, জেনারেটিভ অ্যাডভারসেরিয়াল নেটওয়ার্ক (জিএএনস) নামক একটি বড় প্রতিষ্ঠান এটি নিয়ে কাছ শুরু করে দিয়েছে। বৈচিত্রের একটি বৃহত্তম উত্থান, এই প্রযুক্তিটি অনেক দ্রুত সময়ে আয়ত্ত করতে হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল জালিয়াতি চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। ২০১৬-১৮ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভূয়া সংবাদ ছড়িয়েছে যা ২০১৯ সালে এসে অনেক কমে যাবে।
