শিক্ষা দিয়েছে লোকসভা নির্বাচনের ফল। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। তাই জনসংযোগ বাড়াতে এবার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। চালু করলেন নয়া কৌশল ‘দিদিকে বলো’।
গতকাল সোমবার কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের এক অনুষ্ঠানে মমতা ব্যানার্জি ঘোষণা করেছেন, কারো কোনো অভাব-অভিযোগ থাকলে টোল ফ্রি ৯১৩৭০৯১৩৭০ নম্ব্বরে ফোন করে তার কাছে পৌঁছে যেতে পারবেন আমজনতা। তাদের অভিযোগ শুনবেন তিনি। এছাড়া www.didikbolo.com ওয়েবসাইটেও অভিযোগ জানানো যাবে। এর পাশাপাশি আগামী ১০০ দিনে ১০ হাজার গ্রাম পরিদর্শন করবেন তৃণমূল কংগ্রেসের এমএলএরা? এলাকার অভাব-অভিযোগ শুনবেন? দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, সম্ভব হলে স্থানীয় বিশিষ্টজনদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং রাতে কর্মীদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়া করবেন। প্রয়োজনে সেই গ্রামে তারা রাতও কাটাবেন? তৃণমূল সরকারের কাছ থেকে জনসাধারণ কী চাইছে, ১০০ দিন ধরে হাজার দশেক গ্রামে রাত কাটানো তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে সেই খবর নেবেন মমতা।
মমতা বলেন, টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে জানালে খবর সরাসরি তার কাছেই পৌঁছাবে জানিয়ে মমতা বলেন, ‘সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব। তবে সবটা যে পারব এমন তো বলা যায় না। কিন্তু যতটা পারি সমাধান করে দেব।’?
উল্লেখ্য, জনসংযোগই মমতার বড়ো হাতিয়ার। সেই হাতিয়ারকে সঙ্গী করেই আন্দোলনে সফল হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেছেন তিনি। এখনো তিনিই দলের অন্যতম মুখ। তাকে দেখেই জনতা ভোট দেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে বিবৃতি পাঠ করে ‘দিদিকে বলো’ তথা জনসংযোগ কর্মসূচির ঘোষণায় মমতার ভঙ্গি তার রাজনীতিতে বেশ নতুন। সংবাদ সম্মেলনে বিবৃতি পাঠ করতে মমতা ব্যানার্জিকে প্রায় কখনোই দেখা যায়নি।
লোকসভা নির্বাচনের পর মমতার পরামর্শদাতা হয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। তার পরামর্শমতো চলেই ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে সফল হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মমতার নতুন কৌশল সেই প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শমতোই হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলের মত, লোকসভা নির্বাচনের ধাক্কা সামলাতে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে চোখ রেখে এখন থেকেই বৃহত্তম পরিকল্পিত জনসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করে দিলেন মমতা। যদিও মমতা নিজে বলেছেন, বিধানসভা ভোটের এখনো ২০ মাস বাকি। এই জনসংযোগের সঙ্গে ভোটের কোনো সম্পর্ক নেই।
