ডেঙ্গু মশা নির্মূলে চরম ব্যর্থতার কারণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ঢাকার দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দুই মেয়র, যারা শুধু বিভ্রান্তিমূলক কথা বলছেন কিন্তু কাজ করছেন না, তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন মশা নিধন করতে। ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব নিয়ে দুই সিটি মেয়রকে পদত্যাগ করতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী যিনি পরবর্তী বিষয়গুলো মনিটরিং করতে ব্যর্থ হয়েছেন, কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেননি, তারও পদত্যাগ দাবি করছি।’ গতকাল রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর তিনি এ দাবি জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, আইসিডিডিআরবি সতর্কবার্তা দিয়েছিল, যে ওষুধগুলো ব্যবহার করছে সেটা কার্যকর নয়, সেসব ওষুধ বাদ দিয়ে নতুন কার্যকর ওষুধ আনতে বলেছিল। দুই সিটি করপোরেশন সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে ইতিমধ্যে তারা ৫০ কোটি টাকার ওষুধ ব্যবহার করেছে। এখন ঢাকা শহরের হাসপাতালগুলোতে কোনো বেড খালি নেই। ডেঙ্গুর বিষয়ে জনগণকে সচেতন হতে সারাদেশে লিফলেট বিতরণেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান বিএনপির মহাসচিব।
বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। মহাসচিব ছাড়াও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।
‘রংপুর উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন ঠিক করতে স্থায়ী কমিটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছে।’
ইভিএম বাতিলের দাবি
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সব নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করার জন্য বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচন কোনোমতেই সমর্থন করি না। ইভিএম পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।’
ডেঙ্গু আক্রান্ত নেতাদের দেখতে গেলেন মহাসচিব
স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আগে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ছেলে সারফাত ওয়াসিউদ্দিন এবং হূদেরাগে আক্রান্ত ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দেখতে যান বিএনপির মহাসচিব।
