জামালপুরের ইসলামপুরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পার হলেও শুরু হয়নি গুঠাইল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কার্যক্রম। অনেক দিন যাবত পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে ভবনটি চুরি হয়ে গেছে বেশ কিছু মালামাল। স্থানীয়রা বলছেন, তদন্ত কেন্দ্রটি চালু হলে কমবে ওই অঞ্চলের অপরাধ। আর পুলিশ সুপার বলছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সকল কার্যক্রম চালু করবেন তারা।
জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে জানা যায়, জামালপুর ইসলামপুরের নদী এলাকা ও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বার্থে ২০২২ সালে নির্মাণ করা হয় গুঠাইল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। কাছিমা গ্রামে ৬৫ শতাংশ জমির উপর চারতলা ভবনের তদন্ত কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এর দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পার হলেও এখনো চালু হয়নি এই তদন্ত কেন্দ্রের কার্যক্রম।
স্থানীয় এলাকাবাসী বলছেন, নদীর কাছে এই তদন্ত কেন্দ্র চালু হলে কমবে অপরাধ, স্বাভাবিক থাকবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি।
কাছিমা গ্রামের তালাশ আহাম্মেদ বলেন, ‘ইসলামপুর থানা থেকে আমাদের এই অঞ্চলটি প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। এখানে কোনো ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটলে পুলিশ খবর পেয়ে আসতে অনেক দেরী হয়। এর জন্য মাঝে মধ্যেই অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।’
গুঠাইল এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এই চরাঞ্চলে অনেক অপরাধ সংঘটিত হয়। এসব অপরাধ কমাতে ও দমাতে এই তদন্ত কেন্দ্রটি খুবই প্রয়োজন। এটি চালু হলে অনেক অপরাধী পুলিশের ভয়েই অপরাধ করতে ভয় পাবে।’
ফয়জুর রহমান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘এই ভবনটিতে কেউ যাতায়াত করে না। তাই এখানকার কিছু মালামাল চুরি হয়ে গেছে। এতে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা চাই ভবনটিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম চালু হোক।’
এসব বিষয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু দাপ্তরিক জটিলতা রয়েছে এবং জমিটি নিয়ে একটি মামলা চলমান রয়েছে। মামলাটি প্রায় নিষ্পত্তির পথে। সকল জটিলতা নিরসন করে ইসলামপুরের গুঠাইল তদন্ত কেন্দ্রটি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চালু করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’
